সোমবার | ২৯ জুন, ২০২৬ | ১৫ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ১৩ মহর্‌রম, ১৪৪৮

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪

‘আমাকে বাঁচা’ ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বন্ধুকে ফোন

অনলাইন ডেস্ক :

রাখে হরি তো মারে কে! তারাতলা বিপর্যয়ে ফের সত্যি হল সেই প্রবাদই। ১৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর বন্ধুকে ফোন শ্রমিকের। বিশেষ কথা বলার পরিস্থিতিতে না থাকলেও বলেছিলেন, “আমাকে বাঁচা।” শুনেই ঘটনাস্থলে যান বন্ধুরা। এরপর মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে শুরু হয় যুবককে উদ্ধারের কাজ। ঠিক সিনেমার কায়দায় ধ্বংসস্তূপ থেকে শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা বেজে ৭ মিনিটেয় হুড়হুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে তারাতলার নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন বহু শ্রমিক। পুলিশ, দমকল, এনডিআরএফ, সেনা-সকলে হাতে হাত মিলিয়ে শুরু করে উদ্ধার কাজ। ব্যবহার করা হয় অত্যাধুনিক যন্ত্রও। বুধবার রাতভর উদ্ধার কাজ হলেও শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও আটকে রয়েছেন কয়েকজন। তাঁদের বের করে আনার কাজ চলছে। উদ্ধারকাজ চলাকালীন বুধবার রাতে বিপর্যস্ত তারাতলায় ঘটেছে মিরাকল! জানা গিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিলেন মনু কুমার নামে এক শ্রমিক। তিনি বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা। বুধবার রাত পর্যন্ত তাঁর হদিশ পায়নি পরিবার। আচমকা রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ মনু ফোন করেন বন্ধু সন্তোষ কুমারকে। রিসিভ করার পর সন্তোষ বুঝতে পারেন, বন্ধু আটকে ধ্বংসস্তূপের নিচে। মনু শুধু ফোনে বলেছিলেন, “আমাকে বাঁচা।” সঙ্গে সঙ্গে লোকেশন পাঠানোর কথা বলেন সন্তোষ। যদিও তা দিতে পারেননি মনু।
এরপর আর এক মুহূর্ত নষ্ট না করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান সন্তোষ ও বিভূতি নামে দুই যুবক। তাঁরা উদ্ধারকারী দলকে গিয়ে সবটা জানান। সঙ্গে সঙ্গে মনুর মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে উদ্ধারকারীরা। শুরু হয় খোঁজ। দীর্ঘ তল্লাশির পর বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা নাগাদ উদ্ধার করা হয় মনুকে। সন্তোষ ও বিভূতি জানিয়েছেন, আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বন্ধু। ১৪ ঘণ্টা ওই পরিস্থিতিতে আটকে থাকার পরও যে বুদ্ধি খাটিয়ে ফোন করছেন মনু, এটাই চমকে দেওয়ার মতো বিষয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ