শুক্রবার | ৩ এপ্রিল, ২০২৬ | ২০ চৈত্র, ১৪৩২ | ১৪ শাওয়াল, ১৪৪৭

নিউ ইয়র্কের আদালতে মাদুরো

আমি নির্দোষ, আমিই আমার দেশের প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

সদ্য ক্ষমতাচ্যুত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সোমবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত এক অভিযানে বন্দি হওয়ার পর এই প্রথম তাকে জনসমক্ষে আনা হলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

৬৩ বছর বয়সী মাদুরোর বিরুদ্ধে নারকোটেররিজম বা মাদকসন্ত্রাসবাদকোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক সরঞ্জাম রাখার মতো চারটি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আদালতে একজন দোভাষীর মাধ্যমে মাদুরো বলেনআমি নির্দোষ। আমি অপরাধী নই। আমি একজন ভদ্র মানুষ। আমি এখনও আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।

তবে তার বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই ডিস্ট্রিক্ট জজ অ্যালভিন হেলারস্টাইন তাকে থামিয়ে দেন। মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আদালত আগামী ১৭ মার্চ মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন।

আদালতে শুনানির সময় মাদুরোর পরনে ছিল কমলা ও বাদামি রঙের কারাবন্দির পোশাক। এর আগে ব্রুকলিন কারাগার থেকে হাতে জিপটাই (এক ধরনের হাতকড়াবাঁধা অবস্থায় কঠোর পাহারায় হেলিকপ্টারে করে তাকে ম্যানহাটন আদালতে নিয়ে আসা হয়।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগমাদুরো ২০০০ সাল থেকে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য থাকাকালীন থেকে শুরু করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পর্যন্ত মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মেক্সিকোর সিনালোয়া ও জেতাস কার্টেল এবং কলম্বিয়ার ফার্ক বিদ্রোহীদের মতো সহিংস গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে কোকেন পাচার চক্র পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। মাদুরো দীর্ঘকাল ধরে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবিভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের ওপর সাম্রাজ্যবাদী নজর ঢাকতেই এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গোপন রাখেননি। রবিবার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেনতারা যা চুরি করেছিলআমরা তা ফেরত নিচ্ছি। এখন আমরাই দায়িত্বে।

ট্রাম্প আরও জানানমার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় ফিরে যাবে এবং সেখানকার অবকাঠামো পুনর্গঠন করবে।

ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ (৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেলথাকলেও অব্যবস্থাপনা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে উৎপাদন অনেক কমে গেছে।

১৯৮৯ সালে পানামা আক্রমণের পর লাতিন আমেরিকায় এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নাটকীয় হস্তক্ষেপ। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চীন এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ভেনেজুয়েলায় অস্থিতিশীলতা এবং এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।

মাদুরো অপহৃত হলেও কারাকাসে তার সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এখনও ক্ষমতায় রয়েছেন। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ প্রথমে এই ঘটনাকে ‘তেল চুরির জন্য অপহরণ’ বললেও পরে সুর নরম করেছেন। তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘সহযোগিতার এজেন্ডা’ নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ভেনেজুয়েলার ভেতরে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যারা শনিবারের মার্কিন হামলাকে সমর্থন করেছেতাদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করতে।

বর্তমানে কারাকাসে মাদুরো বিরোধীরা বড় কোনও উল্লাস দেখাচ্ছে নাকারণ এখনও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ মাদুরোর অনুসারীদের হাতেই রয়েছে এবং সেনাবাহিনী এখনও পক্ষ পরিবর্তন করেনি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ