শুক্রবার | ১৫ মে, ২০২৬ | ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ২৭ জিলকদ, ১৪৪৭

ইরানের বৃহত্তম তেল-গ্যাস স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা

যোগাযোগ ডেস্ক

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার মধ্যেই ইরানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইরানের আসালুয়েহ এলাকায় অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সের একটি প্রধান পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে এই হামলা চালানো হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ নিশ্চিত করেছেন, তারা ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় একটি ‘শক্তিশালী হামলা’ চালিয়েছেন।

ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের অর্ধেকই আসে এই কেন্দ্রটি থেকে। ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনা চললেও হামলার ক্ষেত্রে ইরান কোনো ‘ছাড়’ পাবে না।

গত ১৮ মার্চ একই স্থাপনায় ইসরায়েলের আগের হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। কাতার ও ইরানের যৌথ মালিকানাধীন এই ক্ষেত্রটি বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।

হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। মার্চের হামলার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ইসরায়েল আর সেখানে হামলা করবে না। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, ইরান যদি কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাতে থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ‘পুরো গ্যাসক্ষেত্র ধ্বংস করে দেবে।’

এদিন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো কয়েক ঘণ্টা ধরে ইরানের রাজধানী তেহরানে বোমাবর্ষণ করেছে। শহরের আজাদি স্কয়ারের কাছে শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে একটি বিমান হামলার পর কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে যায়।

ইরানি সংবাদমাধ্যম ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, এই হামলায় বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদমি রয়েছেন। কুদস ফোর্সের আন্ডারকভার ইউনিটের প্রধান আসগর বাকেরিকেও হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল।

এসব হামলার কড়া জবাব দিয়েছে ইরানও। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহরে একটি আবাসিক ভবন বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন ও মিসাইল ছুঁড়লে দেশগুলো তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে তা প্রতিহত করে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ