শুক্রবার | ২৭ মার্চ, ২০২৬ | ১৩ চৈত্র, ১৪৩২ | ৭ শাওয়াল, ১৪৪৭

ইরানের হামলার পর কী করবে সৌদি, কাতার,আমিরাত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার জবাবে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুঁড়েছে তাদের আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে। এসব হামলায় তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বেসামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপদ ভ্রমণ, পর্যটন ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে যে ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছিল, তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের যে মূলভিত্তি তেল ও গ্যাস শিল্পেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

আরব সরকারগুলো এই যুদ্ধ চায়নি এবং তারা এটি ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। প্রশ্ন হলো তারা ইরানের যে হামলাকে বিশ্বাসঘাতকতামূলক আখ্যায়িত করেছে, সেই যুদ্ধে নিজেরাই জড়িয়ে পড়বে কি-না।

মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেছেন, সব সীমারেখা অতিক্রম হয়ে গেছে। আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা চলছে। অবকাঠামোগুলোতে হামলা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় হামলা হয়েছে। এসব হামলার প্রভাব একেবারেই স্পষ্ট। সম্ভাব্য পাল্টা জবাবের ক্ষেত্রে আমাদের নেতৃত্বের সামনে সব বিকল্পই খোলা রয়েছে। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই বিনা জবাবে থাকবে না এবং থাকতে পারে না।

ইরানের বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ওই অঞ্চলে প্রতিহত করা হচ্ছে কিন্তু ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুন লাগছে এবং তাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

আবার আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করতে তুলনামূলকভাবে সক্ষম ড্রোনগুলো বড় ধরনের ক্ষতি না করলেও বাণিজ্য ও ভ্রমণকে ব্যাপক বাধাগ্রস্ত করছে।

এটাই ইরানের কৌশল বলে অনেকের কাছে মনে হচ্ছে যে নিজেদের আরব প্রতিবেশীদের বিপর্যস্ত করে তোলা যাতে যুদ্ধ বন্ধে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগ করে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান ইসরাইলের দিকে যত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে তার সমান সংখ্যক ছুঁড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্য ও পর্যটন কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে। ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস শিল্পও ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। এ খাতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ব্যাপক মাত্রায় প্রভাবিত করতে পারে। তবে তেহরানের এই কৌশল উল্টো ফলও দিতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনের আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমনকি তারা যুদ্ধে জড়িত হওয়ার প্রচেষ্টাতেও অংশ নিতে পারে। এখন পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালাতে দেয়নি।

যদিও এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে এবং কোনো এক পর্যায়ে হয়তো তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে। পরিস্থিতি এখনও সে পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং এই মুহূর্তে আরব দেশগুলো মূলত নিজেদের প্রতিরক্ষাতেই মনোযোগ দিচ্ছে। তবে যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হয়, তার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করবে। কিছু দেশ চাইছে না যে তারা এই সংঘাতে ইসরাইলের পক্ষ নিচ্ছে এমন ধারণা তৈরি হোক। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের হামলার জবাবে গাজায় ইসরাইলের প্রাণঘাতী ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ আর লেবানন ও সিরিয়ার মতো দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে ইসরাইলের সাথে আরব দেশগুলোর সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গত বছর হামাস নেতৃত্বকে হত্যার চেষ্টায় কাতারে বোমা হামলার ঘটনায় আরব বিশ্ব ক্ষুব্ধ হয়েছিল। তবে এটা স্পষ্ট যে ইরানের হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য জোরদার করছে।

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয় সদস্য- সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান রোববার জরুরি বৈঠক করে সংহতি প্রকাশ করেছে। দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং ভূখণ্ড, নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার’ অঙ্গীকার করেছে। যার মধ্যে আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের একজন সিনিয়র কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ইরানকে সংযত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ