ওসির কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে ‘থানার ইট খুলে নেওয়ার’ হুমকি এনসিপি নেতার

অনলাইন ডেস্ক :

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার ওপর হামলার ঘটনার পর দলের কোনো কর্মীর ওপর আবার হামলা হলে ‘থানার ইট খুলে নেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন দলটির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার।
সোমবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানার ভেতরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে এ হুমকি দিতে শোনা যায়। এ সময় তার বক্তব্যের ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি এনসিপির নেতাকর্মীরাই পোস্ট করেছেন।
ভিডিওতে যুবাইর সরদারকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি যুবাইর সরদার, নারায়ণগঞ্জ এনসিপির আহ্বায়ক। যদি আমার একটা কোনো কর্মীর গায়ে হাত তোলে, লাশের বদলে লাশ নেব। আমার একজন নেতাকর্মীর গায়ের রক্ত পড়ে আরেকবার, থানার ইটকল পর্যন্ত খুলে নেব।’

এ সময় তিনি উত্তেজিত কণ্ঠে নেতাকর্মীদের সামনে বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, ওই সময় তিনি তার কক্ষের ভেতরে ছিলেন। যুবাইর সরদারের এমন বক্তব্য তিনি শুনেছেন কিনা, জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য কেউ দিয়েছে কিনা, আমি তা শুনিনি। তখন আমি ভেতরে ছিলাম। কিন্তু এমন বক্তব্য কেউ দিয়ে থাকলে তা ভালো চর্চা নয়। তারা দায়িত্বশীল পদে অবস্থান করে এভাবে থানার ভেতরে বক্তব্য রাখতে পারেন না।’
ওসি আরও বলেন, ‘এই ধরনের বক্তব্যের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে যদি কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সেভাবে ব্যবস্থা নেবেন।’ হামলার পর থানায় এনসিপির নেতা-কর্মীরা
এদিকে সোমবার রাত আটটার দিকে ফতুল্লা থানার বক্তাবলী বাজার এলাকায় হামলার শিকার হন এনসিপির জেলা কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম।

এনসিপির নেতাদের অভিযোগ, ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ায় বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নির্দেশে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাওহীদুলের ওপর হামলা চালান।
হামলার পর এনসিপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ফতুল্লা মডেল থানায় অবস্থান নেন। তারা থানার সামনে মিছিল করেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পরে রাতে থানায় যান স্থানীয় সংসদ সদস্য (নারায়ণগঞ্জ-৪) আব্দুল্লাহ আল আমিন।
এ ঘটনায় জাতীয় যুবশক্তির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসান বাদী হয়ে হালিম আজাদসহ বিএনপির ১৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।
তবে মামলার পর এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানিয়েছেন ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ