স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের দুই দিনেও খুনিদের গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যে কারণে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। মুসাব্বিরের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে গতকাল রাজধানীর তেজগাঁও থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা। এছাড়া আজ শনিবার ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল।
এদিকে প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানায়, বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে মুসাব্বির হত্যা ঘটনার তদন্ত চলছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, র্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছেন এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থা কয়েকজনকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য আটক করেছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দাদের সূত্র মতে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকা-। হত্যার সঙ্গে যারা যুক্ত তারা মুসাব্বিরের পরিচিত। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিলিং মিশনে মোট পাঁচজন অংশ নেয়। গলির ভেতরে অস্ত্রধারী তিনজন সরাসরি গুলি চালায় এবং স্টার হোটেলের সামনে মূল সড়কে আরো দু’জন মুসাব্বিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। এরা পেশাদার ভাড়াটে শ্যুটার এবং কেউই স্থানীয় নন।
এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করেছিলো। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদ শেষে একজনকে ছেড়ে দেয়। র্যাবও দু’জনকে এবং থানা পুলিশ তিনজনকে আটক করে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের নাম প্রকাশ করেনি।
এদিকে ঘটনার সময় আশপাশে থাকা একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গুলির আওয়াজ শোনার দুই-তিন সেকেন্ড পরে মুসাব্বির আত্মরক্ষার্থে দৌড় দেয়। দৌড়ের মধ্যে বলতে ছিলেন, ‘তোরা করলিডা কি আমারে?’। এই কথা বলতে বলতে একটু সামনে মুদি দোকানে গিয়ে তিনি পড়ে যান।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, মুসাব্বির হত্যাকা-ের পেছনের রহস্য উদঘাটনে খুবই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কিলিং হতে পারে। সামনে নির্বাচন। এজন্য কোনো পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে কিনা সে বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে।মুসাব্বির ছিলেন একজন জনপ্রিয় নেতা। কারওয়ানবাজার ভিত্তিক তার ব্যবসাও ছিলো। তার নিহত হবার কথা ছড়িয়ে পড়তেই নেতা-কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ঘটনার পর পরই কারওয়ানবাজার সার্ক ফোয়ারা এলাকায় অবরোধ ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার চেয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরদিনও সকালেও কারওয়ানবাজারেও মিছিল করে মুসাব্বিবের অনুসারিরা। এছাড়া গতকালও তেজগাঁও থানা ঘেরাও করেন। এ সময় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে হত্যাকা-ের ঘটনাস্থল তেজতুরী বাজারের স্টার কাবাবের পেছনের গলি থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি কারওয়ান বাজার মোড় হয়ে তেজগাঁও থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা থানা ঘেরাও করে প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থান করেন এবং খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে বিভিন্ন সেøাগান দেন। বিক্ষোভকারীদের চাপে তেজগাঁও থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর মিছিলটি আবারো কারওয়ান বাজার মোড় হয়ে সোনারগাঁও মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈনু মারমা বলেন, মুসাব্বির হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে নিহতের পরিবার ও আম জনতা দলের প্রধান তারেকসহ স্থানীয়রা এসেছিলেন। আমরা তাদের জানিয়েছি যে, ঘটনাস্থলের বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের হাতে এসেছে। ফুটেজগুলো বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। দ্রুতই তাদের পরিচয় প্রকাশ ও গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।










