শুক্রবার | ৩ এপ্রিল, ২০২৬ | ২০ চৈত্র, ১৪৩২ | ১৪ শাওয়াল, ১৪৪৭

নিউ ইয়র্কে বিচারের মুখোমুখি মাদুরো

কোন পথে ভেনেজুয়েলা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ফেরানো নাকি সেখানকার তেলসম্পদ টার্গেট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সার্বভৌম ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে বছরের শুরুতেই বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার সেনারা দেশটিতে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউ ইয়র্কের জেলে পুরেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত দেশটি পরিচালনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানকার তেলসম্পদে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এখানেই থেমে থাকেননি। কার্যত কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে হুমকি দিয়েছেন। তার উদ্দেশ্যে বলেছেন, তাকে ‘নিজের খবর রাখতে হবে।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, তিনি কোকেন তৈরি করছেন এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছেন। পাশাপাশি কিউবা ও মেক্সিকোকে বার বার সতর্ক করছেন ট্রাম্প। তার এসব কর্মকাণ্ডে, বিশেষত ভেনেজুয়েলায় হামলার পর বিশ্ব জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি তার প্রেসিডেন্টের কড়া সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের নিন্দা জানিয়েছে চীন সহ একাধিক দেশ। ভারত সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও ফার্স্টলেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে নেয়া হয়েছে। মাদুরোকে আটক করার পর ট্রাম্প তার ছবি প্রকাশ করেছেন। তাতে মাদুরোকে হ্যান্ডকাফ পরা এবং চোখবাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। এ রিপোর্ট লেখার সময় মাদুরোকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। অভিযোগ গঠন করে জেলে পাঠানো হয়েছে তাকে। দেশটির ভেতর যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। ভেনেজুয়েলায় হামলাকে ‘নির্লজ্জ সাম্রাজ্যবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বামধারার স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেন, ট্রাম্পের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র বা বিশ্বকে আর নিরাপদ করবে না। এক্সে দেয়া পোস্টে স্যান্ডার্স বলেন, এই হামলা উল্টো ফল দেবে। আন্তর্জাতিক আইনের এই নির্লজ্জ লঙ্ঘন পৃথিবীর যেকোনো দেশকে অন্য কোনো দেশ আক্রমণ করার, সম্পদ দখল করার বা সরকার পরিবর্তন করার সুযোগ এনে দেবে। অন্যদিকে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মুক্তি দেয়ার দাবি করেছে চীন। কলম্বিয়ার আহ্বানে সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক সমর্থন করেছে রাশিয়া ও চীন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ