রবিবার দিবাগত রাতের হাইভোল্টেজ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মহারণ দেখার অপেক্ষায় বুঁদ হয়ে আছে পুরো বিশ্ব। তবে এই ফাইনালে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বাসিন্দারা কোন দলকে সমর্থন করছেন, তা নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই। গাজাবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন এখন স্পেনের লা রোজা শিবিরের দিকে। ইসরায়েলের চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানো এবং স্প্যানিশ ফুটবলারদের অব্যাহত সংহতির কারণেই স্পেনের প্রতি গাজার এই ভালোবাসা।
৫০ বার চাকরির পরীক্ষায় ব্যর্থতার ‘সরি পাপা’ লিখে ভারতীয় যুবকের আত্মহত্যা৫০ বার চাকরির পরীক্ষায় ব্যর্থতার ‘সরি পাপা’ লিখে ভারতীয় যুবকের আত্মহত্যা
৩৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি আহমেদ আল-বোজম বলেন, আমি পুরোপুরি স্পেনের পক্ষে, কারণ তারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে।
বার্সেলোনা তারকা লামিনে ইয়ামাল গত মে মাসে লা লিগা জয়ের পর ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়েছিলেন। তাকে উদ্দেশ্য করে আল-বোজম বলেন, ফিলিস্তিন থেকে আমরা আপনাকে ভালোবাসি। আমরা মন থেকে আপনাদের সমর্থন করছি এবং আশা করি আপনারা বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকাও ওড়াবেন।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি হামলার কারণে গাজায় ফুটবল উপভোগ করা প্রচণ্ড কঠিন হয়ে পড়েছে। সাবেক ফুটবলার ও স্টেডিয়াম ম্যানেজার আদনান আল-আফিফি (৩৭) বলেন, বিদ্যুৎ থাকলে তবেই মানুষ ম্যাচ দেখতে পারে। কিন্তু জ্বালানির অভাব ও চড়া দামের কারণে জেনারেটরগুলো বন্ধ থাকে। সাধারণ ফিলিস্তিনিদের এর মূল্য চুকাতে হচ্ছে।
গাজায় হারিয়ে যাওয়া ফুটবল উন্মাদনা কিছুটা ফিরিয়ে আনতে গাজা সিটির একমাত্র সচল ক্লাব প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাব-এ ফিলিস্তিন ও স্পেনের প্রতীকী ম্যাচ আয়োজন করেছিলেন আফিফি। এমনকি পেশাদার ম্যাচের আবহ দিতে সেখানে রেফারি ও প্রতীকী ভিএআর প্রযুক্তিরও ব্যবহার করা হয়।
২০২৪ সালের মে মাসে স্প্যানিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি একে দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এছাড়া পেপ গার্দিওলা ও লামিনে ইয়ামালের মতো স্প্যানিশ ক্রীড়াব্যক্তিত্বদের সংহতি গাজাবাসীর কাছে ফুটবলের চেয়েও বেশি কিছু।
গাজার পঙ্গু ফুটবল দল গাজা আল-ইরাদা’র প্রধান কোচ হাতেম আল-মাগরিবি বলেন, এই খেলোয়াড়রা তাদের হাত-পা হারিয়েছেন, কিন্তু যারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাতে ভোলেননি। পুরো ফিলিস্তিনের মানুষ চায় স্পেনই বিশ্বকাপ জিতুক।
বিশ্বকাপের সময় ফিলিস্তিনিদের সমর্থন করায় মিসরের কোচ হোসাম হাসানকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।
আফিফি জানান, যুদ্ধের কারণে রাফাহ থেকে বেইত হ্যানুন পর্যন্ত গাজার সব বড় স্টেডিয়াম ধ্বংস হয়ে গেছে বা বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখন কেবল ছোট ফাইভ-এ-সাইড পিচে খেলা সীমাবদ্ধ। এতকিছুর পরও গাজাবাসীর কাছে ফুটবল ৯০ মিনিটের জন্য যুদ্ধ ভুলে থাকার এক বিরল মাধ্যম।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ইসরায়েলকে সমর্থন করায় ফিলিস্তিনিদের মাঝে সমালোচনা হলেও আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের প্রতি কোনও ক্ষোভ নেই আফিফির। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা ফুটবলের একটি বড় শক্তি এবং প্রতিভার স্কুল। স্পেনকে সমর্থনের অর্থ এই নয় যে আমরা আর্জেন্টিনার শত্রু। আমরা তাদের জন্যও শুভকামনা জানাই।
ফাইনাল নিয়ে আল-মাগরিবি বলেন, লিওনেল মেসির কারণে আর্জেন্টিনার জেতার সম্ভাবনা বেশি থাকতে পারে। তবে আল-বোজমের ভবিষ্যদ্বাণী ভিন্ন, নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতার পর অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ ব্যবধানে স্পেনই বিশ্বকাপ জিতবে।
সূত্র: আল জাজিরা









