রবিবার | ১২ এপ্রিল, ২০২৬ | ২৯ চৈত্র, ১৪৩২ | ২৩ শাওয়াল, ১৪৪৭

“গোজামিল নয়—স্বচ্ছ নির্বাচনের আশ্বাস প্রধান উপদেষ্টার”

যোগাযোগ ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনও ধরনের ‘গোজামিলের’ নির্বাচন হবে না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “এবারের ভোট ও গণভোট সফলভাবে করতেই হবে। যে যাই বলুক না কেন, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে।”

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং রফিকুল ইসলাম খান।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টা জানান, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। জানুয়ারির মধ্যেই এসব ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের শরীরে ‘বডি ক্যামেরা’ থাকবে, যা সরাসরি কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটর করা হবে। কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটামাত্রই যেন রেকর্ডকৃত ফুটেজ দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন এই প্রচারণা আইনসম্মত কি না। আমরা সবার সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি যে, এতে কোনও আইনি বাধা নেই। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারের দায়িত্বই হলো সংস্কারের পক্ষে থাকা।”

নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা জরুরি তথ্যের জন্য একটি ‘হটলাইন’ নম্বর চালু থাকবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে আশ্বস্ত করে বলেন, কোনও অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সরকার ব্যবস্থা নেবে এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনবে। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনি বিরোধ নিরসনে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যেভাবেই হোক আমাদের ভালো নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত আমাদের জানাবেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনবো; সরকারের যদি কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার থাকে, নেবো।”

যমুনার এই বৈঠকে উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ; গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান; জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

বৈঠক শেষে জামায়াত নেতারা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে তারা পুরোদমে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবেন। একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে দুটি ক্যাম্পেইন সমান্তরালভাবে চলবে।

প্রধান উপদেষ্টা পরিশেষে দেশের স্বার্থে জয়-পরাজয় ছাপিয়ে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার এবং একটি উৎসবমুখর নির্বাচন সফল করার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ