গ্যাস সংকট আরও দুই সপ্তাহ

যোগাযোগ ডেস্ক:

সারাদেশে গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ লাগতে পারে। এ সময়ের মধ্যে আবাসিক, শিল্প, যানবাহন ও বিদ্যুৎ খাতে ভোগান্তি বাড়তে পারে। পাশাপাশি লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল শনিবারও গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন আবাসিক গ্রাহকরা। দিনের অধিকাংশ সময় ঘরে ঘরে জ্বলেনি চুলা। রান্নার কাজ প্রায় বন্ধ ছিল।

মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) গত মঙ্গলবার আগুন লাগে। এতে টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। ওই দুর্ঘটনার পাঁচ দিন পার হলো গতকাল। কিন্তু জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়নি।

কবে ঠিক হবে?
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, শর্টসার্কিটের কারণে সৃষ্ট আগুনে টার্মিনালে গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। এগুলো প্রতিস্থাপনের জন্য যুক্তরাজ্য থেকে তিনজন প্রকৌশলী আনা হয়েছে। তারা গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কেবল ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ মেরামত করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত টার্মিনাল চালুর তাগিদ দেওয়া হলেও এক্সিলারেট কর্তৃপক্ষ এখনও নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেনি।

সূত্রটি আরও জানায়, শুধু কারিগরি ত্রুটি মেরামতই নয়; আন্তর্জাতিক কোম্পানি হওয়ায় এক্সিলারেট এনার্জির ক্ষেত্রে ইন্স্যুরেন্সসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে। এসব শেষ হওয়ার পরই টার্মিনালটি পুরোদমে চালু করা হবে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, শর্টসার্কিটের কারণে কেবল পুড়ে গেছে। বিদেশি প্রকৌশলীরা মেরামতের কাজ করছেন। কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রকৌশলীরা বিরামহীনভাবে কাজ করছেন। কিছু যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনতে হতে পারে। দ্রুত চালুর জন্য এক্সিলারেট এনার্জিকে বলা হয়েছে। তবে তারা নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানাতে পারেনি।

ঘরে ঘরে রান্না বন্ধ প্রায়
গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরা, বাসাবোসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস থাকছে না। কোথাও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চাপ এতটাই কম থাকছে যে রান্না করাই সম্ভব হচ্ছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ও ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করছে। গভীর রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে কেউ কেউ পরদিনের জন্য রান্না সেরে রাখছেন।

মগবাজারের বাসিন্দা রোজিনা পারভীন বলেন, সকাল থেকে গ্যাসের চাপ এতটাই কম ছিল যে কিছুই রান্না করা সম্ভব হয়নি। রাত ৯টার পর গ্যাস এলেও শুধু ভাত রান্না করতেই প্রায় এক ঘণ্টা লেগেছে। আর কিছু রান্না করা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted