শুক্রবার | ২৭ মার্চ, ২০২৬ | ১৩ চৈত্র, ১৪৩২ | ৭ শাওয়াল, ১৪৪৭

চীনা প্রভাব কমাতে বাংলাদেশে সক্রিয় যুক্তরাষ্ট্র

যোগাযোগ ডেস্ক

দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারের কাছে চীনা সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তাব পেশ করবে ওয়াশিংটন। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৪ সালের আগস্টে জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে ভারতের মিত্র শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। এতে বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব কমে আসে এবং সেই সুযোগে চীন তার প্রভাব আরও বাড়িয়েছে।

সম্প্রতি চীন বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে, যার আওতায় ভারতের সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন কারখানা স্থাপন করা হবে। বিষয়টি বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্বিগ্ন করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের যৌথভাবে উন্নয়ন করা জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা করছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়, যাতে চীনের সঙ্গে কিছু ধরনের সম্পৃক্ততার ঝুঁকি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যায়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার প্রয়োজন মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিকল্প দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব এবং মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—যা চীনা সরঞ্জামের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন ও বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে, যা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক। তারা আরও বলে, এই সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয় এবং কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকুক, যাতে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে নয়াদিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ভিসা সেবা ও দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কেও।

ক্রিস্টেনসেন জানান, অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী, তবে তারা চাইবে নতুন সরকার শুরুতেই স্পষ্টভাবে দেখাক যে দেশটি বিনিয়োগবান্ধব।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক কূটনীতি আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে অগ্রগতি হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে নতুন সরকারের সঙ্গে আমরা অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চাই।

দীর্ঘদিন ধরে শেভরন বাংলাদেশে কাজ করলেও, ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশে অন্যান্য বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি খুব কম।

বাংলাদেশে এখনো স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের কোনো আউটলেট নেই।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যে সরকার নির্বাচন করবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গেই কাজ করবে।

নির্বাচনে সাবেক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। জনমত জরিপে বিএনপি এগিয়ে আছে বলে ইঙ্গিত মিলছে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিষয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও সবচেয়ে বড় মানবিক সহায়তাদাতা দেশ।

তিনি জানান, জাতিসংঘের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক ২০০ কোটি ডলারের বৈশ্বিক তহবিল কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ