চেকপোস্টে তার গাড়ি তল্লাশি করে ৮০ লাখ টাকা আটক গুজব বলে দাবি করেছেন লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। তিনি বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তার এজেন্ট গাড়িটি নিয়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। পথে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ম অনুযায়ী গাড়িটি তল্লাশি করে। গাড়িতে কেন্দ্রভিত্তিক খরচ বাবদ প্রায় ১৫ লাখ টাকা ছিল বলে তিনি জানান। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কর্তৃপক্ষ তা ছেড়ে দেয়।
আজ বুধবার সন্ধ্যার পর লক্ষ্মীপুরের ঝুমুর এলাকায় এ্যানীর নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে তল্লাশি করা হয়েছে—এমন ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট বদরুল আলম শ্যামল বলেন, আজ বুধবার সন্ধ্যার পর ঝুমুর এলাকায় শুধু তাদের গাড়িই নয়, আরও অনেক গাড়ি তল্লাশি করা হয়। তাকে আটক করা হয়েছে কিংবা ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে- এ ধরনের তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ঝুমুর এলাকার ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল ৪টার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অর্ধশতাধিক যানবাহনে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় একটি কালো রঙের গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। গাড়িটিতে এ্যানী চৌধুরীর নির্বাচনী এজেন্ট শ্যামল ছিলেন বলে তারা জানান। তাদের দাবি, তল্লাশির সময় গাড়ি থেকে কিছু টাকা পাওয়া যায়, যা প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে শোনা গেছে। তবে সেনাসদস্যরা শ্যামলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তাকে আটক করা হয়নি। প্রায় এক ঘণ্টা পর গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হলে শ্যামলকে আবার সেই গাড়িতে উঠতে দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, তাকে আটক বা তুলে নেওয়া হয়েছে—এমন যে কথা ছড়ানো হচ্ছে, সেটি গুজব।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবেই গাড়িটি চেক করা হয়েছে। একটি মহল আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘এ্যানী চৌধুরীর নির্বাচন অ্যাজেন্ট বদরুল আলম শ্যামলকে বিচারক তাহরিনা আক্তার নওরিন শোকজ করেছেন। তবে আমরা দ্রুত এর জবাব দেব।’
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহা. রেজাউল হক বলেন, বিকেল থেকে ঝুমুর এলাকায় সেনাসদস্যদের একটি রেনডম চেকপোস্ট চলছিল। ওইখানে সবগুলো গাড়ি চেক করা হয়। তার মধ্যে এ্যানী চৌধুরীর নির্বাচনী এজেন্ট শ্যামলের গাড়িও ছিল। গাড়িতে ব্যাগভর্তি কিছু টাকা পাওয়া যায়।
পরে যেহেতু ব্যাগের টাকা ছিলো সেনাসদস্যরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে জানায়, ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোট পরিচালনা করে ১৫ লাখ টাকা পান। তিনি টাকাগুলো কোথায় কোন কাজে খরচের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে; তা প্রমাণ পান। যার কারণে অভিযোগ টাকার গরমিল না পাওয়ায় কোনো প্রকার জরিমানা ছাড়াই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।










