ছড়িয়ে পড়েছে অ্যানথ্রাক্স, চরাঞ্চলে গরুর মৃত্যু আতঙ্ক

অনলাইন ডেস্ক :

রোগ ছড়ানোর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও সুন্দরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ, স্বাস্থ্য বিভাগ গরিবের সম্পদ গরুর মৃত্যু ঠেকাতে পারছে না । বরং দিন যত যাচ্ছে গরুর মৃত্যুও বাড়ছে। বাড়ছে অ্যানথাক্সে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। একের পর এক অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে। অন্যদিকে গরুর শরীরে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। এতে গবাদিপশু মালিকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
সুন্দরগঞ্চ উপজেলার কাপাসিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, মেইনল্যান্ডে ১টি গরুর মৃত্যু হলে সব কর্মকর্তা সেখানে দৌড়ান; কিন্তু তিস্তা নদীর বিশাল চরাঞ্চলজুড়ে গত ১ মাসে অন্তত ৬টি গরু রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সেগুলো তিস্তার পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ খবর জানে না প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
তিনি বলেন, অ্যানথ্রাক্স ঠেকানো যাবে কিন্তু আগে দরকার গরুর মৃত্যু। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে ঢোল পিটিয়ে সভা সমাবেশ আর উপজেলা পরিষদে বসে মিটিং করে মেইনল্যান্ডে গরুর মৃত্যু নিয়ে মাথা খারাপ হলেও চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের কথা মাথায় আনছেন না। ফলে চরাঞ্চলের হাজার হাজার গবাদিপশু ভ্যাকসিন পাচ্ছে ন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ মিয়ার একটি গরু এবং রামজীবন গ্রামের চান মিয়ার একমাত্র সম্বল গরুটির মৃত্যু হয়েছে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে। এর আগে সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের দুলাল গ্রামে আক্রান্ত ৩টি গরুর মৃত্যু হয়। আর ১টি গরু জবাই করে নারীসহ ৭ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হয়। তারা বেশ কিছু দিন চিকিৎসা নিলেও এখনো অনেকেই সুস্থ হতে পারেননি।
গত শনিবারও সর্বানন্দ ইউনিয়নে বাছোহাটি গ্রামে ২টি গরুর মৃত্যুার পর উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক কাজ করছে সাধারণ গৃহস্থদের মধ্যে। তাদের শেষ সম্পদ রক্ষায় অনেকেই সস্তায় পানির দামে গরু বিক্রি করছেন অন্যত্র নিয়ে।
সুন্দরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ বিভাগের ডা. একেএম ইফতেখারুল ইসলাম গবাদিপশুর মৃত্যু ও অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা প্রতিরোধে প্রাণিসম্পাদ বিভাগ মাঠে কাজ করছে। তিনি বলেন, অ্যানথ্রাক্স আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ হলেও আমরা রোগ ঠেকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ