নিজের নাম পরিচয় লুকিয়ে চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিন সহযোগীকে নিয়ে যশোর সীমান্ত ব্যবহার করে পালানোর পথে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডেভিড ইমন ছাড়া অন্য তিনজন হলেন— ঢাকার জুরাইনের আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ এলাকার মো. শামীম (২৮) এবং নোয়াখালীর সাহারপাড়া এলাকার সাফায়েত হোসেন (২৮)।
পুলিশ জানায়, ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন; এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই নজরদারি জোরদার করা হয়। পুলিশের একটি দল ঝুমঝুমপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। ভোরের দিকে একটি কালো রঙের প্রাইভেটকার সন্দেহজনক মনে হলে সেটিতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির সময় গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তিকে প্রথমে শনাক্ত করতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। কারণ গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি গোঁফ কেটে নিজের চেহারায় পরিবর্তন এনেছিলেন; নিজের নাম বলছিলেন মিরাজ। তিনি দাবি করেন তার বাড়ি ঢাকায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করলে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে তিনিই চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন।
যশোর জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকদিন ধরে ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে তারা যশোর এলাকায় অবস্থান করছে নিশ্চিত হওয়ার পর চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন,গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেক পোস্ট বসিয়ে ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিডকে গ্রেপ্তার করা হয়। যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ যৌথভাবে এ অপারেশনে অংশ নিয়েছে। তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছেন; তারা যশোর হয়ে ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, জেলা পুলিশের একাধিক দলের দীর্ঘদিনের নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি নিজে ফোর্স নিয়ে অভিযানে অংশ নিয়েছি। বুধবার সকালে ডেভিড ইমনসহ তার আরও পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের নিয়ে যশোর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছি।
এসপি মাসুদ আলম আরও বলেন,’ডেভিড ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রায়হানকে গ্রেপ্তারের জন্য একই সময়ে পৃথক অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
পুলিশ সূত্র জানায়, হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে ডেভিড ইমনকে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারের আগে প্রায় সাত দিন ধরে তার অবস্থান ও চলাচলের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হয়।
মোবারক হোসেন ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা এবং বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ নামে পরিচিত সাজ্জাদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া হত্যা এবং একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনের নাম রয়েছে। এছাড়া হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।
সম্প্রতি নগরের চন্দনপুরা এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটওয়ার্ক (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের ঘটনায়ও আলোচনায় আসে ডেভিড ইমনের নাম। অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সক্রিয় অপরাধচক্র, তাদের সদস্য, অস্ত্রের উৎস ও বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলপ জানায় পুলিশ।










