জাপানে জন্মহার ও প্রজনন হার রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। কম সংখ্যক বিয়ে ও পরিবার গঠন— এর অন্যতম প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাপানে জন্ম নিয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৭১ হাজারের কিছু বেশি শিশু। এটি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার কম এবং ১৮৯৯ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর সর্বনিম্ন সংখ্যা। এ তথ্য জানিয়েছে জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে।
একই সঙ্গে দেশটির মোট প্রজনন হার (একজন নারী তার জীবদ্দশায় গড়ে কতজন সন্তানের জন্ম দিতে পারেন) কমে দাঁড়িয়েছে ১.১৪-এ, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন।
এ নিয়ে টানা দশ বছর ধরে জাপানে জন্মের সংখ্যা কমছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মহার হ্রাসের গতি তাদের পূর্বাভাসের চেয়েও অনেক দ্রুত।সরকারি গবেষকেরা ধারণা করেছিলেন, প্রজনন হার এত নিচে নামতে ২০৪০ সাল পর্যন্ত পর্যন্ত সময় লাগবে। কিন্তু সেই পরিস্থিতি অনেক আগেই দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে অন্যতম কারণ হলো বিয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া। শতাব্দীর শুরুতে জাপানে বছরে প্রায় ৮ লাখ বিয়ে নিবন্ধিত হতো, যা এখন কমে প্রায় ৫ লাখে নেমে এসেছে।
জাপানে অধিকাংশ সন্তান বিবাহিত দম্পতির ঘরেই জন্ম নেয়। ফলে বিয়ের হার কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জন্মহারের ওপর।
তবে জরিপে দেখা গেছে, অবিবাহিত জাপানিদের প্রায় ৮০ শতাংশ এখনও বিয়ে করতে চান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক পরিবর্তনের কারণে মানুষের জন্য জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে। আগে কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বন্ধুদের মাধ্যমে অনেকের পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে উঠত। কিন্তু দূর থেকে কাজের (রিমোট ওয়ার্ক) প্রসার এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও কর্মক্ষেত্রে হয়রানি নিয়ে বাড়তি সচেতনতার কারণে সেই সুযোগ কমে গেছে।ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বিয়ে-সংক্রান্ত সংস্থা ও ম্যাচমেকিং সেবাগুলোর জনপ্রিয়তা আবার বাড়ছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। তারা পরিকল্পিত ও কার্যকর উপায়ে দীর্ঘমেয়াদি সঙ্গী খুঁজতে এসব সেবার দিকে ঝুঁকছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা এবং জনসংখ্যা কমে যাওয়া এখন জাপানের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।









