বড় টুর্নামেন্টে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ফর্ম নিয়ে যারা সমালোচনা করছিলেন, তাদের মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই কড়া জবাব দিলেন ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে) টানা ১০ ম্যাচে গোল না পাওয়ার যে খরা তাঁর ক্যারিয়ারকে কিছুটা ম্লান করছিল, তা এক ঝটকায় উড়িয়ে দিলেন তিনি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বমঞ্চে নিজের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করেছেন এই পর্তুগিজ সুপারস্টার।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘কে’-এর ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল। ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা ছন্দে দেখা যায় রোনালদোকে। ম্যাচের ঠিক ৬ মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলোর চমৎকার পাস থেকে নিখুঁত এক শটে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে নেন তিনি। এই এক গোলেই ঘুচে যায় তাঁর দীর্ঘদিনের গোলখরা, একই সাথে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েন সিআরসেভেন।
রোনালদোর আক্রমণাত্মক রূপ এখানেই থামেনি। ৩৯ মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তাঁর সাবেক সতীর্থ ব্রুনো ফার্নান্দেজের এক দারুণ থ্রু-বল ধরে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের চমৎকার স্লাইডে ম্যাচের নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি।
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে বড় টুর্নামেন্টে তাঁর ওপর জমে থাকা সব চাপ ও সমালোচনাকে এক নিমেষেই দূর করলেন রোনালদো। এর আগে পেনাল্টি বাদে টানা ১৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৪২টি শট নিয়েও গোল পাচ্ছিলেন না তিনি, যা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। তবে বিশ্বমঞ্চের এই রাজকীয় পারফরম্যান্স আরও একবার প্রমাণ করলো—ফর্ম সাময়িক হলেও, রোনালদোর ক্লাস চিরন্তন। তাঁর এই বিধ্বংসী প্রত্যাবর্তনের ওপর ভর করে পর্তুগাল শেষ পর্যন্ত ৫-০ ব্যবধানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।










