শনিবার | ২৮ মার্চ, ২০২৬ | ১৪ চৈত্র, ১৪৩২ | ৮ শাওয়াল, ১৪৪৭

ট্রাম্পের গাজা ‘শান্তি বোর্ড’-এ ব্লেয়ার ও রুবিও

যোগাযোগ ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গাজার অস্থায়ী শাসন ও পুনর্গঠন তদারকির জন্য নতুন “বোর্ড অব পিস” গঠন করেছে। এতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার টনি ব্লেয়ারকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প নিজে এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবরটি জানিয়েছে।

ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেন, যেকোন সময়ের জন্য এই বোর্ড অত্যন্ত মর্যাদাবান একটা বোর্ড। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক এক্সিকিউটিভ বোর্ড সদস্য গাজার স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন । এই দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে, শাসন ক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সম্পর্ক পুনর্গঠন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বড় আকারের অর্থায়ন ও মূলধন সংগ্রহ।

প্রতিষ্ঠাতা কার্যকরী বোর্ডে আরও রয়েছেন ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট আজয় বাঙ্গা, প্রাইভেট ইকুইটি বিষয়ক নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক রোয়ান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল। এটি ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ, যা ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে গঠিত।

১৯৯৭-২০০৭ মেয়াদে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা স্যার টনি ব্লেয়ার যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, রাশিয়া এবং জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত হিসেবে ফিলিস্তিনে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জন্য কাজ করেছেন। গত বছর তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে গাজা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন।

বুলগেরিয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক জাতিসংঘ মধ্যপ্রাচ্য দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ গাজায় বোর্ডের হাই রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে কাজ করবেন। এছাড়া পৃথক ১৫ সদস্যের প্যালেস্টাইনিয়ান টেকনোক্র্যাটিক কমিটি ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’র নেতৃত্বে রয়েছেন ফিলিস্তিন অথোরিটির সাবেক উপমন্ত্রী আলি শা’আথ।

আন্তর্জাতিক স্টেবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) এর নেতৃত্বে থাকবেন মার্কিন মেজর জেনারেল জ্যাস্পার জেফার্স। আইএসএফ মূলত ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেবে এবং দীর্ঘস্থায়ী সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলবে।

অক্টোবরে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি, জিম্মি-বন্দি বিনিময়, আংশিক ইসরায়েলি প্রত্যাহার ও সাহায্য বৃদ্ধি হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে পুনর্গঠন, পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ও হামাসের অস্ত্র ত্যাগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরতি খুবই স্তিমিত। অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে প্রায় ৪৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের মতে মানবিক পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ