জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাতজন শিক্ষককে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, “এদের একেকজনের বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগ আছে। তবে জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াটা তো অবশ্যই একটা মূল কারণ। এটা কমন।”
গত মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় “জুলাইয়ের চেতনা বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে” ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্য থেকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে– পৃথক পৃথক অভিযোগে তিন জন শিক্ষককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, চার জন শিক্ষককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এই তালিকায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. সাদেকা হালিমও। তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
তার বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ-সহ বিভিন্ন অভিযোগে” তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।-
এছাড়া, বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সিন্ডিকেট সভায়।
“জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থি কার্যক্রম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও সরকার বিরোধী অপপ্রচার এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ ও হুমকি প্রদানের অভিযোগে” ক্লিনিক্যাল ফার্মেসী ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলে এতে জানানো হয়।
একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামকেও একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।
ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের বিষয়ে অভিযোগ হলো, তিনি নানাবিধ অনিয়মের সাথে যুক্ত এবং এম.ফিল ও পিএইচ.ডি থিসিসের মধ্যে সাদৃশ্যমূলক চৌর্যবৃত্তি করেছেন। তাই, তাকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। -সুত্র : বিবিসি বাংলা









