মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী রবিবার (২৮ ডিসেম্বর)। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এই নির্বাচন বেসামরিক শাসনে প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করবে বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক সরকার। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মিয়ানমারের নির্বাচনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো—
এবারের নির্বাচনে ৪ হাজার ৯৬৩ জন প্রার্থী নিবন্ধন করেছেন।
৬টি রাজনৈতিক দল দেশব্যাপী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং ৫১টি দল কেবল একটি অঞ্চল বা রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
২০২৩ সালে ৪০টি দল ভেঙে দেওয়া হয়। কারণ তারা নির্বাচনের জন্য নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়। এর মধ্যে ২০২১ সালে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক শাসক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)-ও রয়েছে।
মোট প্রার্থীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ, অর্থাৎ ১,০১৮ জন প্রার্থী, সামরিক-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) থেকে মনোনীত।ভোটগ্রহণের ২টি ধাপ নির্ধারিত হয়েছে— ২৮ ডিসেম্বর ও ১১ জানুয়ারি। প্রয়োজনে কয়েক সপ্তাহ পর আরেকটি ধাপ অনুষ্ঠিত হতে পারে।মিয়ানমারের মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ২০২টিতে প্রথম দুই ধাপে ভোটগ্রহণ হবে। গৃহযুদ্ধ চলমান থাকায় বাকি এলাকাগুলোতে কবে ভোট হবে, তা স্পষ্ট নয়।
ভোট গণনা বা ফল ঘোষণার কোনও তারিখও নির্ধারণ করা হয়নি।
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদে মোট ৬৬৪টি আসন রয়েছে— এর মধ্যে নিম্নকক্ষে ৪৪০টি এবং উচ্চকক্ষে ২২৪টি আসন।
উভয় কক্ষের ২৫ শতাংশ আসন সক্রিয় সামরিক সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত, যাদের নিয়োগ দেন সেনাপ্রধান। এই কোটা ২০০৮ সালের সংবিধানে নির্ধারিত।
নির্বাচনের পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের অধিবেশন বসতে হবে। সংসদ সদস্যরা প্রথমে স্পিকার নির্বাচন করবেন, এরপর রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন, যিনি পরবর্তীতে সরকার গঠন করবেন।
গত ৩৫ বছরে মিয়ানমারে মোট ৪টি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এর মধ্যে কেবল ২০১০ ও ২০১৫ সালের নির্বাচনেই নির্বাচিত সরকার গঠিত হয়।
২০২০ সালের নির্বাচন সামরিক জান্তা বাতিল করে দেয়। একইভাবে ১৯৯০ সালের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হওয়ার ২০ বছর পর বাতিল করা হয়, যা কার্যত উপেক্ষিত ছিল।










