বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এহতেশাম হক। একই সঙ্গে নিজের প্রার্থিতা বাতিলে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধেও ‘দ্বিচারিতা’ ও ‘হিপোক্রেসি’র অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। তার দাবি, দ্বৈত নাগরিকতা নিয়ে সিলেট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মালিকের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো হলেও তার ক্ষেত্রে কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করা হয়েছে। যে কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
সংবাদ সম্মেলনে এহতেশাম হক বলেন, ‘যেখানে আমাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কেন প্রশ্ন উঠছে না সদ্য বিদেশ ফেরত তারেক রহমানকে নিয়ে? উনারও তো দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল। যেহেতু আমরা জানি, অনলাইনে এভিডেন্স দেখা গেছে, উনি ব্রিটিশ নাগরিক উল্লেখ করেছেন কোম্পানি হাউজে। তাহলে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলছেন না কেন তার বিরুদ্ধে?’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কেন এই দেশের সাংবাদিক সমাজ বা সচেতন সমাজ এই প্রশ্ন করেন না যে, আমাদের জানার অধিকার আছে আপনার (তারেক রহমানের) দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে কি-না, থেকে থাকলে এটা আপনি ছেড়েছেন কি-না?’
বিএনপির আরও প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রশাসনের নমনীয়তার বিষয় উল্লেখ করে এনসিপির এই প্রার্থী বলেন, ‘বিএনপির বড় নেতা এবং ফাইন্যান্সার আব্দুল আউয়াল মিন্টুর আবেদনে উনি উল্লেখ করেছেন উনি দ্বৈত নাগরিক ছিলেন। কিন্তু ফেনীর রিটার্নিং অফিসার প্রশ্নই করলেন না যে, আপনি যে দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, এটার প্রমাণটা দয়া করে দেন।’
নিজের প্রার্থিতা বাতিলের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি সিলেটের রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার বললেন, আমি প্রপার কাগজপত্র দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যাপারে দিতে পারিনি, সুতরাং আমারটা বাতিল। ঠিক ৩০ সেকেন্ড পরে দ্বিতীয় যে সিদ্ধান্তটা উনি দিলেন…সেখানে উনি কন্ডিশনালি (শর্তসাপেক্ষ) সিলেট-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মালিকের মনোনয়নটা বৈধ করলেন হোম অফিস বন্ধের কথা বলে।’
এহতেশাম হক আরও বলেন, ‘আমার ক্ষেত্রেও তো হোম অফিস বন্ধ ছিল। আমার ক্ষেত্রেও তো রিটার্নিং অফিসার কন্ডিশনালি দিতে পারতেন।’রাষ্ট্রযন্ত্র ও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের ‘হিপোক্রেসি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “এটা শুধু আমার ব্যক্তি এহতেশাম হকের প্রার্থিতার ব্যাপার না, এটা একটা সিমটম পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের। নির্বাচন কমিশন এখানে স্পষ্টত একটা আসন্ন সরকারের বা একটা বড় রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ। বর্তমানে ক্ষমতার একটি বড় ভার কেন্দ্র তৈরি হয়েছে যা মূলত ‘গুলশান কেন্দ্রিক’।”










