রবিবার | ১২ এপ্রিল, ২০২৬ | ২৯ চৈত্র, ১৪৩২ | ২৩ শাওয়াল, ১৪৪৭

তাসনিম জারার ৬ প্রতিশ্রুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন আলোচিত চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করা এই প্রার্থী শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ওই পোস্টে ‘ফুটবল’ প্রতীকের এই প্রার্থী নিজের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

ইশতেহারে তিনি নাগরিক বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা-৯ এলাকাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য জনপদে রূপান্তরের অঙ্গীকার করেছেন।

পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, “ঢাকা-৯ এই শহরের প্রাণ। অথচ, আমাদের সঙ্গেই বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়। আমরা গুলশান-বনানীর সমান ট্যাক্স দেই, সমান বিল দেই, কিন্তু সেবা পাই তৃতীয় শ্রেণির। ভোটের সময় নেতারা আসেন, ভোট নেন, তারপর উধাও হয়ে যান। রাষ্ট্র আমাদের কেবল ‘রাজস্ব আদায়ের উৎস’ মনে করে। টাকা নেওয়ার সময় আছেন, কিন্তু সেবা দেওয়ার সময় নেই।”

“আমি পেশাদার রাজনীতিবিদ নই, আমি এই এলাকার মেয়ে। আমার কথা পরিষ্কার, ঢাকা-৯ কে অবহেলার দিন শেষ। আমরা সমান ট্যাক্স দেই, আমাদের অধিকারও সমান। আমাদের ন্যায্য পাওনা এবার আমরা বুঝে নিবো।”

নির্বাচনি ইশতেহারে তাসনিম জারা গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি ‘বাসযোগ্য ঢাকা-৯ চাই’ দাবি করেছেন।

বিভিন্ন সমস্যার কথা টেনে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী লেখেন, “প্রতি মাসে আমরা গ্যাসের জন্য বিল দিচ্ছি। কিন্তু, চুলা জ্বালালে কী বের হয়, বাতাস। গ্যাস নেই, কিন্তু বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। এটা এক ধরণের প্রতারণা। এর সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে আমাদের জিম্মি করে ফেলে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনা। যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে বাসার পাশে ও রাস্তায় দুর্গন্ধে টেকা দায়। রাস্তাগুলো বছরের পর বছর ভাঙাচোরা বা কাজ চলমান অবস্থায় পড়ে থাকে।”

গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতার সমাধানের কথা জানিয়ে তাসনিম জারা লেখেন, “ন্যায্য বিল: সংসদে আমার প্রথম কাজ হবে সেবা না দিলে বিল নেই (No Service, No Bill) নীতির জন্য খসড়া আইন প্রস্তাব করা এবং চাপ সৃষ্টি করা। তিতাস যদি গ্যাস দিতে না পারে, তারা টাকা নিতে পারবে না। গ্যাস না থাকলে মাসিক বিল মওকুফ করার প্রস্তাব থাকবে এই বিলে। পাইপলাইন গ্যাসের ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারকে এই এলাকায় ভর্তুকি মূল্যে বা ন্যায্য দামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাধ্য করবো। সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে চাপ দেবো। ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বর্ষার আগেই খাল ও নর্দমা পরিষ্কার নিশ্চিতে আমি ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের ওপর কঠোর নজরদারি রাখবো। ঘরের সামনে বা রাস্তায় ময়লার স্তূপ জমতে দেওয়া হবে না। আধুনিক বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা নিশ্চিত ও এলাকার পার্কগুলোতে হাঁটার পরিবেশ উন্নত করতে সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবো।”

তিনি আরও লেখেন, “রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা চলবে না। ওয়াসা বা সিটি করপোরেশন, যেই রাস্তা কাটবে, কাজ শেষ করার নির্দিষ্ট ডেডলাইন থাকবে। ডেডলাইন মিস করলে ঠিকাদারকে জরিমানা গুনতে হবে।”

নিজের নির্বাচনি ইশতেহারে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার কথাও তুলে ধরেছেন এই প্রার্থী। ফেসবুক পোস্টে এই চিকিৎসক লেখেন, “ঢাকা-৯ এলাকায় আমরা সাত থেকে আট লাখ মানুষ বাস করি। অথচ, আমাদের জন্য বড় হাসপাতাল মাত্র একটি, মুগদা মেডিক্যাল। এটা একটা নিষ্ঠুর কৌতুক। ৫০০ বেডের এই হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ডাক্তার-নার্সরা অমানবিক চাপে কাজ করছেন, আর রোগীরা সেবা না পেয়ে ধুঁকছেন। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো ডেঙ্গু। প্রতি বছর বর্ষা এলেই লোক দেখানো মশার ওষুধ ছিটানো হয়। অথচ আমাদের প্রিয়জনরা মারা যায়।”

সমাধানের কথা জানিয়ে তাসনিম জারা লেখেন, “একজন ডাক্তারের হাতেই সমাধান হবে ঢাকা-৯ এর স্বাস্থ্য সমস্যা। আমি একজন ডাক্তার। আমার দেশ-বিদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে আমি এই সমস্যা সমাধানে কাজ করবো। মুগদা হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সচল রাখতে আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করবো। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনবো। এটি যেন একটি আদর্শ সেবাকেন্দ্র হয়, সেই উদ্যোগ নেবো। পাড়ার ক্লিনিকগুলোকে আধুনিকায়নে বিশেষ বরাদ্দ আনার উদ্যোগ নেবো।”

ডেঙ্গু টাস্কফোর্স গঠনের কথা জানিয়ে এই প্রার্থী লেখেন, “বৃষ্টি আসার পর ওষুধ ছিটিয়ে লাভ নেই। আমরা একটি ‘স্থায়ী মশা নিধন স্কোয়াড’ গঠন করবো, যারা সারা বছর ড্রেন পরিষ্কার ও লার্ভা নিধনের কাজ করবে। ডেঙ্গু মৌসুম আসার আগেই আমরা মশা মারবো।” নারী স্বাস্থ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত, হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারীবান্ধব টয়লেট এবং ব্রেস্টফিডিং নিশ্চিতে কাজ করবো।”

ঢাকা-৯ আসনের নিরাপত্তা ও মাদকের বিষয় নিজের ইশতেহারে টেনেছেন তাসনিম জারা। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট এখন সাধারণ মানুষের নেই, চলে গেছে মাদক সিন্ডিকেটের দখলে। সন্ধ্যার পর খিলগাঁও বা বাসাবোর অলিগলি দিয়ে মা-বোনেরা হাঁটতে ভয় পান। যে শহর নারীকে নিরাপত্তা দিতে পারে না, সে শহর উন্নত হতে পারে না। আমরা ট্যাক্স দিই রাস্তার বাতির জন্য, আর সেই বাতি নষ্ট থাকে যাতে অপরাধীরা অন্ধকারে রাজত্ব করতে পারে।’

সমাধানের কথা জানিয়ে এই প্রার্থী লেখেন, “স্কুল, কলেজ ও গার্মেন্টসের রাস্তায় আমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিসি ক্যামেরা এবং উচ্চ-ক্ষমতার ল্যাম্পপোস্ট বসাবো। অন্ধকার রাস্তা মানেই অপরাধের আখড়া। আমি ঢাকা-৯ এর কোনও কোণা অন্ধকার থাকতে দেব না। মাদকাসক্তদের আমরা ঘৃণা করবো না, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। কিন্তু, যারা মাদক কারবার করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে তাদের এক বিন্দু ছাড় দেবো না। প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে এলাকা মাদক কারবারি থেকে মুক্ত করবো।”

নারীবান্ধব পরিবহণের কথা টেনে তিনি লেখেন, “বাসে নারীদের সিট পাওয়া যুদ্ধজয়ের মতো। আমি পরিবহণ মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের সঙ্গে বসে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেবো।”

শিক্ষার বিষয়ও নিজের ইশতেহারে টেনেছেন তাসনিম জারা। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “অপরিকল্পিত কারিকুলাম আর ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ বানিয়ে ফেলেছে। তার ওপর আছে স্কুলের ভর্তি বাণিজ্য। টাকা বা সুপারিশ ছাড়া ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়া যায় না। এই দুর্নীতি আমাদের মেধাবী সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে।” এসব সমস্যা সমাধানের কথা জানিয়ে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী লেখেন, “আমি বিশ্বমানের শিক্ষা লাভ করার সুযোগ পেয়েছি। আমি চাই, আমার এলাকার প্রতিটি সন্তান যেন বিশ্বমানের শিক্ষার সুযোগ পায়। তা নিশ্চিতের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। আমি কথা দিচ্ছি, স্কুল ভর্তিতে এমপির কোনও সুপারিশ বা কোটা থাকবে না। ভর্তি বাণিজ্য আমি কঠোর হাতে দমন করবো। মেধা ও স্বচ্ছতাই হবে একমাত্র যোগ্যতা।”

বরাদ্দের টাকা দিয়ে স্কুলগুলোতে আধুনিক সায়েন্স ল্যাব, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব এবং কোডিং শেখানোর ব্যবস্থা করবো জানিয়ে তাসনিম জারা লেখেন, “এতে আমাদের ছেলেমেয়েরা ফ্রিল্যান্সিং বা উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারবে। প্রত্যেকটি স্কুলে লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে যাতে আমাদের শিশু কিশোরদের মানসিক বিকাশ যথাযথভাবে ঘটে। শুধু বইয়ের পড়া নয়, মানসিক স্বাস্থ্য, সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেখার ওপর জোর দেবো। শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সংসদে লড়বো। একইসঙ্গে স্কুলে বুলিং বা হয়রানি বন্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করবো। স্কুলগুলোতে যেন অভিভাবক-শিক্ষক ফোরাম তৈরি হয় এবং তা যথাযথভাবে কাজ করে তা নিশ্চিত করবো।”

ইশতেহারে অর্থনীতি ও জীবিকার কথাও উল্লেখ করেছেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি লেখেন, “আমাদের অনেক তরুণ-তরুণীরা বেকার। কারণ সিস্টেম তাদের পক্ষে নেই। তাদের মেধা আছে, কিন্তু পুঁজি নেই। রাষ্ট্র কেবল বড় শিল্পপতিদের ঋণ মওকুফ করে। কিন্তু আমাদের ছোট ব্যবসায়ী বা নতুন উদ্যোক্তারা ব্যাংকের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে যায়। আমাদের মায়েরা কাজ করতে চান। কিন্তু, ডে-কেয়ার সেন্টার না থাকায় সন্তানকে ঘরে রেখে তারা কাজে যেতে পারেন না। এটা অর্থনীতির ব্যর্থতা।

“আমি এমপি হলে আমার বিশেষ বরাদ্দ থেকে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘সিডিং ফান্ড’ বা প্রাথমিক পুঁজির ব্যবস্থা করবো। জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার জন্য আমি ব্যাংকের সঙ্গে লড়াই করবো। প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারি খরচে বা ভর্তুকি দিয়ে ‘কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার’ চালু করবো। গৃহকর্মী থেকে শুরু করে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতে আমি সংসদে কথা বলবো। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ই-কমার্স প্রশিক্ষণ ও অনলাইন মার্কেট অ্যাক্সেস নিশ্চিত করবো।”

জবাবদিহিতার কথা জানিয়ে তাসনিম জারা লেখেন, “ভোটের আগে নেতারা পায়ে ধরেন। আর ভোটের পরে তাদের দেখা যায় না। এমপি সাহেব থাকেন গুলশানে বা সংসদে, আর আপনারা থাকেন সমস্যায়। এমপিকে পাওয়া যেন ভাগ্যের ব্যাপার। এই সংস্কৃতি আর কতদিন? আমি নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে এলাকার প্রাণকেন্দ্রে আমার স্থায়ী অফিস চালু করব। কর্মজীবীদের সুবিধার্থে এটি সন্ধ্যায়ও খোলা থাকবে। আমি এবং আমার অফিসের স্টাফরা আপনাদের জানানো সমস্ত সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবো। আপনার অভিযোগ কোনও ফাইলে চাপা পড়ে থাকবে না। আমরা ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড করবো, যেখানে আপনারা দেখতে পারবেন, আপনার অভিযোগের বর্তমান অবস্থা কী।”

তিনি আরও লেখেন, “আমাদের সঙ্গে কথা বলতে কোনও ‘ভাই’ বা ‘নেতা’ ধরার প্রয়োজন পড়বে না। এলাকাবাসীকে একটা কথা বিশেষভাবে বলতে চাই। আমি কোনও পেশাদার রাজনীতিবিদ নই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বচ্ছভাবে রাজনীতি করার ও দেশ গড়ার একটা সুযোগ এসেছে তাই রাজনীতিতে এসেছি। আমার এই ইশতেহার কোনো গতানুগতিক ফাঁকা বুলি নয়। এটি আপনাদের সঙ্গে আমার চুক্তি। আমি যা লিখেছি, তা কীভাবে বাস্তবায়ন করবো সেই পরিকল্পনা করেই মাঠে নেমেছি।”

নিজেকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাসনিম জারা লেখেন, “আপনারা অনেক নেতা দেখেছেন, অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছেন। এবার একজন ডাক্তারকে সুযোগ দিন। যে ডাক্তার জানে রোগ কোথায় আর ওষুধ কোনটা, যে ডাক্তার কথা রাখে, যে ডাক্তার বিপদে পাশে এসে দাঁড়ায়। এমন একজন শিক্ষিত সন্তানকে সুযোগ দিন, যে আপনাদের মাথা নত হতে দেবে না। ঢাকা ৯ এর ভাগ্য বদলাতে আসন্ন নির্বাচনে ‘ফুটবল’ মার্কায় ভোট দিন। আপনারা আমার শক্তি হোন, আমি আপনাদের কণ্ঠস্বর হব। বিজয় আমাদের হবেই, ইনশাআল্লাহ।”

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ