ব্যাপক ভাঙচুরের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করেছে প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’। হামলার পর গুঁড়িয়ে দেওয়া কক্ষগুলোতেই আপাতত ধোয়ামোছা ও প্রাথমিক সংস্কার শেষে শিশুদের নিয়মিত ইপিআই ও হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে মিরপুরের ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে ফেলা ভবনের ইট-রডের স্তূপ সরানোর কাজ চলছে। সেখানে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি ও ত্বরান্বিত করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মায়েরা তাদের সন্তানদের নিয়ে টিকাদানের জন্য কেন্দ্রে আসছেন এবং রাড্ডার কর্মীরা অত্যন্ত সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্য দিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। নারী-শিশুদের কিছুটা স্বস্তি দিতে পাশের একটি ভবন থেকে অস্থায়ী সংযোগ দিয়ে দুটি ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশু মাহিরকে নিয়মিত টিকা দিতে নিয়ে এসে আক্ষেপ প্রকাশ করে মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘আজকে ঠিকমতো বসার জায়গা নেই, গরমে বাচ্চা কাঁদছে। এমন মানবিক প্রতিষ্ঠানে যারা এমন অমানবিক কাজ করল, তাদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’আমিনবাজার ও স্থানীয় অন্যান্য এলাকা থেকে আসা মায়েরা ধ্বংসযজ্ঞ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালুর পর পরিদর্শনে আসা রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আক্তার সাংবাদিকদের জানান, ৫০ বছরের পুরনো এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রথম দাবি হলো, কাজের নিরাপদ পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ‘সমমনা ব্যবসায়ী পরিষদ’ নামের দুষ্কৃতকারীরা যাতে আর কখনো এভাবে হামলা চালাতে না পারে, তার জন্য প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। সংবাদমাধ্যমের সত্যনিষ্ঠ প্রতিবেদনের কারণেই আজ আমরা পুনরায় কার্যক্রম চালু করতে পেরেছি।”
তিনি আরো জানান, সরকারের উচ্চ মহল এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি যেন দ্রুত আগের মতো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়, সে ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রতিনিধি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক এবং সরকার এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।










