২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় দেড় বছর পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারের কিছু মৌলিক প্রশ্নে গণভোটও হচ্ছে। বাংলাদেশের এই নির্বাচনের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ‘লাইভ নিউজ’ প্রকাশ করছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বাংলাদেশে প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার ভোট দিতে যাচ্ছেন। ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের আগস্টে দীর্ঘদিনের নেতা শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে গণতন্ত্রে ফেরার এটি একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই নির্বাচনে সরাসরি লড়াই হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। এই জোটে রয়েছে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি), যা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তরুণ কর্মীদের দ্বারা গঠিত।
দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন—এসব বিষয়ই নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের অষ্টম জনবহুল এই দেশে এসব ইস্যু এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘ন্যাশনাল চার্টার ২০২৫’ নামে একটি প্রস্তাবিত সনদ নিয়েও গণভোট হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে তৈরি এই সনদ ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি নির্ধারণ করবে।
আল জাজিরার পাশাপাশি বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ‘লাইভ নিউজ’ প্রকাশ করছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এতে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভোটগ্রহণ শুরুর খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবিসির লাইভে আরও বলা হয়েছে, এটি শুধু ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচনই নয়, বরং কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথমবার বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া—কেউ-ই নির্বাচনী মাঠে নেই।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের প্রধান ইসলামপন্থি দল প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ভোটাররা কেবল নতুন সরকারই নির্বাচন করবেন না; তারা একটি সাংবিধানিক গণভোটেও অংশ নেবেন, যেখানে ‘জুলাই সনদ’ নামে ব্যাপক সংস্কারপ্যাকেজ বাস্তবায়িত হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে গ্রহণ করা হচ্ছে।
নির্বাচন নিয়ে ‘বাংলাদেশের জেন-জি ভোটারদের প্রত্যাশা- চাকরি, সুশাসন ও স্বাধীনতা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চাকরি, সুশাসন এবং ভয়ভীতি ছাড়া কথা বলার স্বাধীনতা—এ তিনটি বিষয়ই বাংলাদেশের জেন-জি প্রজন্মের ভোটারদের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে।










