শুক্রবার | ১৫ মে, ২০২৬ | ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ২৭ জিলকদ, ১৪৪৭

বিশ্বকাপ টিকিটের উচ্চমূল্যে জালিয়াতির ঝুঁকিও বাড়ছে, সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞদের

অনলাইন ডেস্ক :

ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, তত একের পর উদ্বেগ সামনে আসছে। উত্তর আমেরিকায় বসতে যাওয়া বিশ্বকাপের উন্মাদনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই সমর্থকদের জন্য এক অশনিসংকেত নিয়ে হাজির হয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। আসন্ন বিশ্বকাপের টিকিটসহ আনুসাঙ্গিক সবকিছুর আকাশচুম্বী দাম নিয়ে বিশ্বজুড়েই সমালোচনার ঝড় চলছে। এদিকে যাতায়াত খরচকে পুঁজি করে বিশ্বজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভয়ংকর সব জালিয়াত চক্র।
আর্থিক অপরাধ শনাক্তকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফিডজাই’-এর প্রধান নির্বাহী নুনো সেবাস্তিয়াও রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো বিশাল জনসমাগম হলো স্ক্যামার বা প্রতারকদের জন্য স্বপ্নপুরী।’ তিনি সতর্ক করে জানান, টিকিটের চড়া দামের কারণে সাধারণ সমর্থকরা সস্তায় টিকিট পাওয়ার আশায় ভুল পথে পা বাড়াচ্ছেন, এবং ঠিক এই সুযোগটিই নিচ্ছে অপরাধীরা। সেবাস্তিয়াও বলেন, ‘ফুটবল ভক্তরা সবসময় উচ্চবিত্ত হন না। খেলার প্রতি প্রবল টান থাকলেও অনেকের পর্যাপ্ত অর্থ থাকে না। আর এই আবেগকেই পুঁজি করে অপরাধীরা তাদের শিকার বানায়।’সম্প্রতি ‘দ্য নোবল’ নামক একটি অলাভজনক সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ২৮,৫০০-এর বেশি সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হতে পারে। এই জালিয়াতির জাল কেবল ছোটখাটো অপরাধীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাক্ষাৎকারে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে সেবাস্তিয়াও বলেন, ‘আমরা এমন সব বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক নিয়ে কথা বলছি, যা ইরান বা উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো দ্বারা স্পনসর করা হতে পারে, যেখানে আমাদের বিচার ব্যবস্থা পৌঁছানো অসম্ভব।’সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, এই সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আধুনিক দাসত্ব এবং মানব পাচার। সেবাস্তিয়াও জানান, বিশাল সব কল সেন্টারে মানুষের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে তাদের দিয়ে জোরপূর্বক এই ‘ফিশিং’ বা স্ক্যামিং আক্রমণ চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, ‘যখন পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে, দেখা যায় তাদের অনেকেই আসলে মানব পাচারের শিকার।’মাঠের বাইরেও রয়েছে বড় বিপদ। বড় বড় ইভেন্টে যৌন শোষণের উদ্দেশ্যেও মানব পাচার বেড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় চলতি বছরের সুপার বোলের সময় ২৯ জন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার এবং ৭৩ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। আসন্ন বিশ্বকাপের সময়ও স্টেডিয়ামগুলোতে কড়া নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। সমর্থকদের কেবল অনুমোদিত মাধ্যম থেকেই টিকিট ক্রয়ের জন্য জোরালো পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

 

 

 

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ