শুক্রবার | ২৭ মার্চ, ২০২৬ | ১৩ চৈত্র, ১৪৩২ | ৭ শাওয়াল, ১৪৪৭

বিশ্ববাজারে তেলের কোনো ঘাটতি নেই -আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা

বিশ্ববাজারে তেলের কোনো ঘাটতি নেই ও সংকটের আশঙ্কা অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই দাবি করেন তিনি।

সাংবাদিকদের বিরোল বলেন, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ‘লজিস্টিক্যাল বিঘ্ন’ অনেক দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কিন্তু বৈশ্বিক বাজারে পর্যাপ্ত ও বিশাল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তেল রয়েছে তেল রয়েছে।

জরুরি মজুত তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়টি আইইএ বিবেচনা করছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিরোল বলেন, সব ধরনের বিকল্পই টেবিলে রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।

বিরোল আরও বলেন, আমরা মূলত সাময়িক একটি বিঘ্নের মুখে পড়েছি, এটি একটি লজিস্টিক্যাল বিঘ্ন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ ও এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে তেহরানের পাল্টা হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আবারও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ না করলেও, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা ‘পুড়িয়ে দেওয়া হবে’ বলে হুমকি দিয়েছেন দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক জেনারেল।

আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে বুধবার (৩ মার্চ) দেওয়া এক পোস্টে জেনারেল সরদার জব্বারি বলেন, আমরা তেলের পাইপলাইনেও হামলা চালাবো ও এই অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেবো না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাবে।

এই হুমকির পরে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস পরিবহন হওয়া এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরপরও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই রয়ে গেছে।

সংঘাত শুরু হওয়ার আগের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারির পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বেড়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের পর বড় ধরনের জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের সময় আন্তর্জাতিক সমন্বিত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে আইইএ গঠন করা হয়েছিল।

সূত্র: এএফপি

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ