বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৪ দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১০০ দশমিক ১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম রুপার দাম ১০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করলো।
মেটালস ফোকাসের পরিচালক ফিলিপ নিউম্যান বলেন, স্বর্ণের বিনিয়োগ চাহিদাকে যে শক্তিগুলো সমর্থন করছে, তার বড় একটি অংশ থেকেই রুপাও উপকৃত হচ্ছে। চলমান শুল্কসংক্রান্ত উদ্বেগ এবং লন্ডন বাজারে ভৌত রুপার সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকাও দামে বাড়তি সহায়তা দিচ্ছে।
এদিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৫৯ দশমিক ৯৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন এই ধাতুটির দাম রেকর্ড ৪ হাজার ৯৬৭ দশমিক ০৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। আর ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচারও শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৬১ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে।
স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং বলেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত অনিশ্চিত সময়ে স্বর্ণ নিরাপদ আশ্রয় ও বৈচিত্র্য আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। কৌশলগত বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর জন্য এটি এখন প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এটি কেবল সাময়িক কোনো পরিস্থিতি নয়, বরং সময়ের মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ২০২৬ সালের শুরু থেকেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে টানাপোড়েন, ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ এবং শুল্ক ঘিরে অনিশ্চয়তা নিরাপদ আশ্রয়স্থল সম্পদের চাহিদা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনা এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রবণতাও স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।
মার্কিন নীতিগত দিক থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ফেডারেল রিজার্ভ ২৭-২৮ জানুয়ারির বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। তবে বাজার এখনো আশা করছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই দফা সুদের হার কমানো হতে পারে। সুদ না দেয়া সম্পদ হওয়ায় কম সুদের পরিবেশে স্বর্ণ সাধারণত বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। অন্যদিকে স্পট প্লাটিনামের দাম ৪ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৭৪০ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এইচএসবিসি এক নোটে জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের কাছে প্লাটিনাম এখন ‘স্বর্ণের তুলনায় সস্তা বিকল্প’ হিসেবে আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। ব্যাংকটি ধারণা করছে, ২০২৬ সালে প্লাটিনামের উৎপাদন ও ব্যবহারের ঘাটতি ১ দশমিক ২ মাসেরও বেশি হতে পারে।










