বৃহস্পতিবার | ২৬ মার্চ, ২০২৬ | ১২ চৈত্র, ১৪৩২ | ৬ শাওয়াল, ১৪৪৭

‘বোর্ড অব পিস’ নাকি আধিপত্যের ছক? ট্রাম্পের প্রস্তাব ঘিরে প্রশ্ন

যোগাযোগ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার এক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ প্রদান করে ‘বোর্ড অব পিস’-এর স্থায়ী সদস্য হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এই বোর্ড মূলত গাজা পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে গঠিত হলেও এর কার্যক্রম কেবল ফিলিস্তিনি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি এ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে।

বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন ট্রাম্প নিজেই। এই বোর্ডে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণপত্রের সাথে যুক্ত প্রতিষ্ঠাতা ঘোষণায় বলা হয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, আইনসিদ্ধ শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে কাজ করবে। এই বোর্ড আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শান্তি স্থাপনের কাজ করবে।

ট্রাম্প বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবেও নিজে পৃথকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি নিজেই নির্বাহী বোর্ডের সদস্য নির্বাচন করবেন, কিন্তু তাদের বিশ্বমানের নেতা হতে হবে। চেয়ারম্যান পদের কোনও মেয়াদ নেই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ না করলে এই পদে নতুন কারও আসার সম্ভাবনা নেই। তবে পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইলে এই পদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে অন্য কাউকে নিয়োগ দিতে পারবেন।

সদস্য রাষ্ট্র নির্বাচনের ক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে। সাধারণ সদস্যদের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন বছর, তবে প্রথম বছরে এক বিলিয়ন ডলার অর্থ অনুদান করলে মেয়াদ সীমা প্রযোজ্য হবে না। বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সাধারণ ভোটে, ভোটে কোনও পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে, সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের ভোটই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

নির্বাহী বোর্ডে ট্রাম্পের সঙ্গে রয়েছেন সিনেটর মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ সমঝোতা পরামর্শক স্টিভ উইটকফ, জামাতা জেরেড কুশনার, ব্রিটিশ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, মার্কিন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের কর্মকর্তা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল।

অনেক দেশকে বোর্ডে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দেশগুলোকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। চীন বোর্ডে আমন্ত্রণ পেয়েছে, তবে দেশটি জাতিসংঘকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনও আমন্ত্রণ পেয়েছে, যদিও দুই দেশের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে একটা উত্তেজনা কাজ করছে।

কিছু দেশ ইতোমধ্যে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ বোর্ডে যোগ দিচ্ছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতও অংশ নেবে। কানাডা অংশ নেবে, তবে স্থায়ী সদস্য পদের জন্য এক বিলিয়ন ডলার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ফ্রান্স বোর্ডে যোগ দেবে না বলে জানিয়েছে, যার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ফরাসি ওয়াইনের ওপর উচ্চ শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছেন। জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে একই বোর্ডে থাকা খুব কঠিন। ব্রিটেনও একই চিন্তা প্রকাশ করেছে।

উক্ত ঘোষণা অনুযায়ী, বোর্ড কার্যকর হবে তিনটি দেশের সম্মতি প্রদানের পর।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ