শুক্রবার | ২৭ মার্চ, ২০২৬ | ১৩ চৈত্র, ১৪৩২ | ৭ শাওয়াল, ১৪৪৭

ভারতে যেভাবে ধরা পড়লেন ফয়সাল, যে সীমান্ত দিয়ে দেশ ছাড়েন

যোগাযোগ ডেস্ক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে খুনের মূল অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর গ্রেফতার করা হয়েছে। ভাতের পশ্চিমবঙ্গে তারা গ্রেফতার হয়েছেন।

রোববার (৮ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গোপন সূত্রে এসটিএফ খবর পায়- বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও খুনসহ একাধিক গুরুতর অপরাধ করার পর দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক দেশ থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা সুযোগ পেলে পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারে বলেও তথ্য পায় পুলিশ।

এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৭ মার্চ রাত ও ৮ মার্চ ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তারা হলেন- রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭), যিনি বাংলাদেশের পটুয়াখালীর বাসিন্দা এবং আলমগীর হোসেন (৩৪), ঢাকার বাসিন্দা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তারা পালিয়ে যান এবং মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন।

পরে ভারতের বিভিন্ন স্থান ঘুরে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় আসেন এবং সেখান থেকে আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।

এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।

আটক দুজনকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার পর পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। আদালত আটক দুই আসামির ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে জানা গেছে।

গত ১৪ ডিসেম্বর যুগান্তর অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে রিকশায় চলন্ত অবস্থায় গুলি করে পালিয়ে যাওয়া দুজন ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে যমুনা টেলিভিশনের ময়মনসিংহের ব্যুরো চিফ হোসাইন শাহিদ রোববার যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ওই দুই শুটার- ফয়সাল ও আলমগীর শুক্রবারই ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে গেছেন। ঘটনার পরপরই একটি প্রাইভেট কারে প্রথমে মিরপুর থেকে আশুলিয়া পরে গাজীপুর হয়ে ময়মনসিংহে ঢুকেন। ময়মনসিংহে এসে সেই প্রাইভেট কার পালটে ফেলেন তারা।

হোসাইন শাহিদ বলেন, তারা অন্য আরেকটি প্রাইভেট কারে উপজেলার ধারাবাজার পেট্রল পাম্পে পৌঁছান। সেখান থেকে স্থানীয় একজন ব্যক্তি তাদের মোটরসাইকেলযোগে ভুটিয়াপাড়া সীমান্তে নিয়ে যান। স্থানীয় ওই ব্যক্তিকে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে সেই সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করা অন্য যে দুইজন ছিল তাদের আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ