ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইয়ের হামলার আগে বিপজ্জনক নৌপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে আসা ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ১২টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে। বাকি জাহাজগুলো চলতি সপ্তাহে পৌঁছাবে বলে শনিবার (৭ মার্চ) জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছে, জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। ওই সময় অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলেও সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে জাহাজগুলো ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে এবং সেখান থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রম চলছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানিয়েছে, এই ১৫টি জাহাজে সবমিলিয়ে ৭ লাখ টন পণ্য রয়েছে। আমদানি করা এসব পণ্যের মধ্যে ৪টি জাহাজে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), ২টিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং ৯টিতে সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার।
বিপজ্জনক এ নৌপথ পাড়ি দিয়ে কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এ ছাড়াও ‘আল গালায়েল’ ও ‘লুসাইল’ নামে আরও দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ আগামী সোম ও বুধবারের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের পৌঁছার কথা রয়েছে। ওই দুটি জাহাজে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন এলএনজি রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের আগে নৌপথ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আসা বেশ কিছু জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে শুরু করেছে। এসব জাহাজে এলএনজি, এলপিজিসহ শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের কারণে নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ২৮ ফেব্রæয়ারির আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে রওনা দেওয়া জাহাজ দেশে এলেও এর পরবর্তী জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কাতার, দুবাইসহ বিভিন্ন বন্দরে আটকা পড়েছে।










