সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করলো বাংলাদেশ। মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনও দলই জালের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় সরাসরি টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপ ধরে রেখে বাজিমাত করে বাংলাদেশের যুবারা।
ভাগ্য পরীক্ষায় বাংলাদেশের হয়ে গোল করেন মুরশেদ আলী, চন্দন রায়, আব্দুল ফাহিম ও শেষ শটে জয় নিশ্চিত করা রোনান সুলিভান। অন্যদিকে ভারতের প্রথম শট নিতে আসা রিষি সিংয়ের প্রচেষ্টা ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন। ভারতের স্যামুয়েল রাকশামের চতুর্থ শটটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে শিরোপার পথ পরিষ্কার হয় বাংলাদেশের জন্য। শেষ শটে রোনান লক্ষ্যভেদ করতেই উল্লাসে মাতে পুরো দল।
খেলার শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মুখর ছিল মালদ্বীপের গ্যালারি। ১৩ মিনিটে রোনানের ফ্রি-কিক থেকে মিঠু চৌধুরীর হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে লিড নেওয়া হয়নি বাংলাদেশের। ১৮ মিনিটে মোহাম্মদ মানিকের মাপা ক্রসে রোনান পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলে আরও একটি সুযোগ নষ্ট হয়। ম্যাচের ৩২ মিনিটে ভারত ফাঁকা পোস্ট পেলেও গোললাইন থেকে অবিশ্বাস্য দক্ষতায় বল প্রতিহত করেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভারত আক্রমণাত্মক হলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল অটুট। ম্যাচের বয়স বাড়ার সাথে সাথে মাঠের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, ৫৭ মিনিটে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। ৬৬ মিনিটে নাজমুল হুদা ফয়সালের জায়গায় রোনানের ভাই ডেকলান সুলিভান মাঠে নামলে বাংলাদেশের আক্রমণে গতি বাড়ে। একদম শেষ দিকে রোনান গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে না পারলে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়।বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা এ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে মোট সাতবার। এর মধ্যে চারবার সেরা হয়েছে ভারত। নেপাল দুইবার এবং বাংলাদেশ একবার এই শিরোপা জিতেছে।
এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় শিরোপা (২০২৪ ও ২০২৬)। এর আগে ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৫ সালের ফাইনালে ভারতের কাছে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। চতুর্থবারের প্রচেষ্টায় ভারতকে ফাইনালে হারিয়ে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে দিল কোচ মার্ক কক্সের শিষ্যরা।










