ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরু হলে ভ্লাদিমির আরসেনিয়েভের জন্য তা যেন সম্ভাব্য এক সোনার খনিতে পরিণত হয়েছিল। ৭৫ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানী মস্কোভিত্তিক ভলনা সেন্ট্রাল সায়েন্টিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট–এর প্রধান। প্রতিষ্ঠানটি ট্যাংকের ক্রুদের ব্যবহৃত একটি যোগাযোগযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরি করত। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ ট্যাংক প্রবেশের পর প্রতিরক্ষা খাতের বিপুল অর্ডারে ভরে যায় তার কারখানা।
কিন্তু যে অর্ডারগুলো প্রথমে আশীর্বাদ বলে মনে হয়েছিল, সেগুলোই পরে হয়ে ওঠে অভিশাপ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে আরসেনিয়েভ বলেছিলেন, অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে উৎপাদন বাড়াতে হয় তাকে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত দামে, কঠোর সময়সীমার মধ্যে পণ্য সরবরাহের চাপ ছিল প্রবল। ব্যর্থ হওয়ার কোনও সুযোগ ছিল না। সোভিয়েত শাসক জোসেফ স্তালিনের দৃষ্টান্ত টেনে রুশ সরকার প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, চুক্তি পূরণে ব্যর্থ হলে জেল হতে পারে। এই সাক্ষাৎকারগুলো এই প্রথম প্রকাশ করলো রয়টার্স।২০২৩ সালের বসন্তে এসে ভলনার উৎপাদন নির্ধারিত সময়সূচি থেকে পিছিয়ে পড়ে। শীর্ষ ব্যবস্থাপকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারে সেই চিত্র উঠে এসেছে। সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডার সের্গেই মোসিয়েনকো জানান, সময়মতো সরবরাহ সম্ভব হবে না বুঝে তিনি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ই ক্রেতা। তারা সব সময় ঠিক।
আরসেনিয়েভ বলেন, সহায়তার জন্য যেসব কর্মকর্তার দ্বারস্থ হয়েছিলেন, তারা তাকে উপেক্ষা করেছেন। দেউলিয়া হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই তিনি মস্কোর রেড স্কয়ারে যান। ক্রেমলিনের বাইরে, সোভিয়েত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ভ্লাদিমির লেনিনের সমাধিসৌধের কাছে নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ হাসপাতালে কাটাতে হয়।
হাসপাতাল থেকে রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে আরসেনিয়েভ বলেন, তার চুক্তিগুলো সমস্যায় পড়েনি। বরং যারা তাকে দুর্বল করতে চেয়েছেন, তারাই ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যে কোম্পানি ক্রমেই বেশি অর্ডার পাচ্ছে এবং সেগুলো পূরণ করছে, সে কীভাবে ধ্বংসের পথে যায়? নিশ্চয়ই কোথাও বড় সমস্যা আছে।
ক্রেমলিন ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই ঘটনা বা প্রতিরক্ষা চুক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্নের কোনও জবাব দেয়নি।










