২০১০ সালে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেওয়া শুরু করে সরকার। সে বছর সব বই ছাপা ও বিতরণ শেষ হয়েছিল ২১ জুলাই। অর্থাৎ, বই পেতে বছরের অর্ধেক সময় চলে যায়। বিনামূল্যে বই ছাপা ও বিতরণে প্রথম বছরের সেই ব্যর্থতা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি কোনো সরকার। টানা ১৬ বছর শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের শুরুতে বই তুলে দিতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের হাতে দেরিতে পাঠ্যবই দেওয়ার ক্ষত শিক্ষাখাত ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। প্রতিটি শিক্ষাবর্ষ দেরিতে শুরু হচ্ছে, প্রয়োজনের চেয়েও কম ক্লাস হচ্ছে এবং সিলেবাস শেষ না করেই পরীক্ষা দিয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠছে শিক্ষার্থীরা। এতে শিখন ঘাটতি বাড়ছে এবং তলানিতে নামছে শিক্ষার মান।বই ছাপা ও বিতরণে ধারাবাহিক এ ব্যর্থতার পেছনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সরকারকে দায়ী করছে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। আর মন্ত্রণালয় বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এনসিটিবি ঘিরে যে প্রেস সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তা ভাঙতে তারা চেষ্টা করছেন। এ চক্র নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে পাঠ্যবই ছাপার কাজে স্বচ্ছতা ও মাননিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
দুই পক্ষের এমন বিপরীতমুখী বক্তব্যে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষকরা। তারা বলছেন, শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীদের প্রথম ও অত্যাবশকীয় শিক্ষা উপকরণ হলো নতুন পাঠ্যবই। ক্লাস শুরু করতে, পাঠদানে গতি বাড়াতে বছরের শুরুতে বই দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও এনসিটিবি সেটা কীভাবে করবে, তা তাদেরই ঠিক করতে হবে।
বই বিতরণে কোন বছর কত মাস লেগেছে
চলতি (২০২৫) শিক্ষাবর্ষেও বই ছাপায় দেরি হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে এবং বই ছাপানোর কাজ শুরু করে। ছাপাখানা মালিকদের চাপে রেখে কাজ করার পরও বই ছাপা ও বিতরণ শেষ করতে ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময় লেগে যায়।বিনামূল্যে বই বিতরণ শুরুর বছর ২০১০ সালের ২১ জুলাই পর্যন্ত সময় লেগেছিল বই বিতরণে। ২০১১ সালে ১২ এপ্রিল, ২০১২ সালে ১৫ এপ্রিল, ২০১৩ সালে ৬ মার্চ, ২০১৪ সালে ১৮ মার্চ, ২০১৫ সালে ৫ মার্চ, ২০১৬ সালে ৬ মার্চ, ২০১৭ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সালে ১৩ মার্চ, ২০১৯ সালে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময় লেগেছিল।
এরপর আসে মহামারি করোনাভাইরাস। করোনার কারণে ২০২০, ২০২১ সালে বই ছাপা ও বিতরণের শিডিউল ভেঙে পড়ে। ওই দুটি বছরের বই ছাপা শেষ করতে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত সময় লেগে যায়। তবে ঠিক কবে নাগাদ বই বিতরণ শেষ করা হয়েছিল, তার সঠিক তথ্য এনসিটিবির কাছেও সংরক্ষিত নেই।
২০২২ সালে ২৪ মার্চ পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণ শেষ করে এনসিটিবি। এছাড়া ২০২৩ সালে ১৭ মার্চ, ২০২৪ সালে ৮ এপ্রিল বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণ কাজ শেষ করতে সক্ষম হয় সরকার।










