শুক্রবার | ৩ এপ্রিল, ২০২৬ | ২০ চৈত্র, ১৪৩২ | ১৪ শাওয়াল, ১৪৪৭

দেশবাসী আরও যেসব চমক দেখার অপেক্ষায়

সাত কর্মদিবসেই বাজিমাত করলেন প্রধানমন্ত্রী

কথায় আছে-দিনটা কেমন যাবে, সকালটা দেখলে বোঝা যায়। সমাজে প্রচলিত এ প্রবাদটি নবাগত বিএনপি সরকারের জন্যও প্রযোজ্য হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার প্রথম দিন থেকে তারেক রহমান একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন। ইতোমধ্যে পার হয়েছে সাত কার্যদিবস। তবে প্রতিটি দিন ছিল বিএনপি সরকার ও দেশবাসীর জন্য বেশ গৌরবের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা নজিরবিহীন। আমার মতো অনেকে আপাতদৃষ্টিতে ধরেই নিয়েছেন-এভাবে চমক দেখানো অব্যাহত থাকলে বিএনপি সরকারের পুরো মেয়াদটি নতুন এক ইতিহাস হতে পারে। তবে সেজন্য শর্ত হলো-প্রধানমন্ত্রীকে জনস্বার্থের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনই কঠোর ও কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে চমক দেখাতেই হবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শপথ নিয়েছেন ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকালে। আর আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি। এর মধ্যে পার হয়েছে সাতটি কর্মদিবস। তবে শপথ নেওয়ার পর সবাইকে হতবাক করে দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত গাড়ি ব্যবহার পরিহার করলেন। পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন ব্যবহার করবেন ব্যক্তিগত গাড়ি। নিজস্ব চালক ছাড়াও জ্বালানি তেল নিজেই কিনবেন। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া সাধারণ চলাচলে গাড়িতে জাতীয় পতাকাও ব্যবহার করবেন না। চলাচলের সময় বিশেষ নিরাপত্তার অংশ হিসাবে সড়কের দুই পাশে পুলিশের সারিবদ্ধ অবস্থানের বাধ্যবাধকতা রাখা হবে না। প্রধানমন্ত্রীর বহরে থাকা অনেকগুলো গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে ৪টিতে নামিয়ে আনেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর মুভমেন্টের সময় যানবাহনসহ জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক থাকবে এবং তার গাড়িবহরও ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলবে। এছাড়া জনদুর্ভোগ কমাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক অধিকাংশ সময় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে শনিবারও অফিস করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এখানেই শেষ নয়, প্রধানমন্ত্রী অফিসে আসছেন ঘড়ি ধরে সকাল ৯টায়। শুধু নিজেই এমন নিয়ম মানছেন, তা কিন্তু নয়। মন্ত্রিসভার সদস্য ও সচিবরা সময়মতো অফিসে আসছেন কি না, সেটিও মনিটর করছেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার অপহৃত এক স্কুলছাত্রকে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করার ঘটনাও বেশ আলোচিত ও প্রশংসিত। এর আগে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঘটল আরেক অভাবনীয় এক মানবিক ঘটনা। উনিশ বছর আগের পরিচিত সাধারণ এক কর্মচারী নূরকে নাম ধরে ডেকে বলেন, ‘তুই নূর না?’ বাকিটা বর্ণনাতীত। আবেগঘন এক আবহ। আনন্দাশ্রু নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছুটে আসেন নূর। ওই ঘটনাও এখন মানুষের মুখে মুখে। সবাই বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুবই মানবিক একজন মানুষ এবং সব সময় নিজেকে সাধারণ একজন নাগরিক ভাবতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

যদিও তারেক রহমানের এমন সব চমকের যাত্রা শুরু হয়েছিল সংসদ-সদস্য (এমপি) হিসাবে শপথ নেওয়ার পরপরই। সংসদীয় দলের বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তার দলের এমপিরা সরকারি সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না। এমন খবর ছিল সবার কাছে অবিশ্বাস্য। কিন্তু এটিই এখন বাস্তব।

প্রধানমন্ত্রীর এমন অভূতপূর্ব সব সিদ্ধান্ত এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। সবার মুখে মুখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনাম। দেশের বেশির ভাগ মানুষ এ মুহূর্তে তাকে সত্যিকারের ‘জনতার রাষ্ট্রনায়ক’ হিসাবে মূল্যায়ন করছেন। অনেকের কাছে এমন একজন প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই স্বপ্নের মধ্যে ছিল। সাধারণ মানুষ এখন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। অনেকে ধরেই নিয়েছেন, তার এই চমক দেখানো অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ