‘আমি রাজনীতি করি না। কিন্তু খালেদা জিয়াকে দেখে আমরা বড় হয়েছি। তিনি অসুস্থ ছিলেন জানতাম, কিন্তু মৃত্যুর খবর শুনে আর ঘরে থাকতে পারিনি। এখানে এসে মনে হচ্ছে, সবাই আমার মতোই কাঁদছে।’
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে প্রথম আলোকে কথাগুলো বলছিলেন নাসরিন জাহান। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে রাজধানীর মিরপুর থেকে ছুটে আসেন এই নারী।
খালেদা জিয়া (৭৯) আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর জানাজা আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও এর সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে। তাঁকে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে শোকাহত মানুষ ভিড় করতে থাকেন। বিএনপির নেতা–কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ—সবাই ছিলেন অশ্রুসিক্ত। হাসপাতাল চত্বর ও আশপাশের এলাকায় তৈরি হয় শোকস্তব্ধ এক পরিবেশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, দিনভর হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের কেউ কেউ দল বেঁধে আবার কেউ কেউ বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করছেন। কাউকে মোনাজাত করতেও দেখা যায়। একে অন্যের সঙ্গে খালেদা জিয়াকে নিয়ে স্মৃতিচারণাও করেন অনেকে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আরিফ হাসনাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নব্বইয়ের আন্দোলন দেখেছি। ম্যাডাম আমাদের শুধু নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাহস ও অনুপ্রেরণার নাম। তিনি শুধু দলের নেত্রী ছিলেন না, আমাদের কাছে ছিলেন আন্দোলনের শক্তি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক।’ কথাগুলো বলার সময় তাঁর চোখ বেয়ে অশ্রু পড়ছিল।
অনেকে এসেছিলেন কালো ব্যাজ পরে। কেউ হাতে ধরে আছেন জাতীয় পতাকা, কেউ খালেদা জিয়ার ছবি, কারও হাতে বিএনপির দলীয় পতাকা। শোকাবহ পরিবেশ। ভিড়ের মধ্যে বারবার কেউ কেউ বলছিলেন, ‘এটা (মৃত্যুর খবর) বিশ্বাস করতে পারছি না।’










