জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সদ্য পদত্যাগ করা ডা. তাসনিম জারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এজন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) শর্ত অনুযায়ী তিনি পাঁচ হাজার ভোটারের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র জামা দিয়েছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর সুবজবাগ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে তাসনিম মনোনয়নপত্র জমা দেন। এক আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইংরেজিতে ওই পোস্টে তাসনিম সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লেখেন, ‘আজ প্রায় ৫,০০০ স্বাক্ষর নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। এটি আমি নই। এটি আপনারা। আপনারা সবাই। যারা শীতের ভোরে, গভীর রাতে, কর্মদিবসে- মা-বাবা, ভাই-বোন, কাজিন, বন্ধু আর সন্তানদের নিয়ে এসেছিলেন। যারা নিজেরা সই করেছেন, আবার অন্যদেরও সই করিয়েছেন।’
অবদান স্বীকার করে তিনি আরও লেখেন, ‘সেই মা, যিনি হাঁপাতে হাঁপাতে ছুটে এসেছিলেন, কারণ আমেরিকায় থাকা তার মেয়ে ফোন করে বকেছে, কেন তিনি এখনো বুথে যাননি। ওই কলেজপড়ুয়া ছেলেমেয়েরা, যারা হঠাৎ করেই স্বেচ্ছাসেবক দল বানিয়ে শেষ ঘণ্টায় ৫০টি স্বাক্ষর জোগাড় করেছে। ওই কাকা যিনি আমাদের কথা শুনে এগিয়ে এসে বলেছিলেন, “দেখি, কিছু করতে পারি কি না”-আর আরও ১০টি স্বাক্ষর এনে দিয়েছিলেন।’
‘ওই মা-মেয়ের জুটি, যারা সই করে আরও ফরম নিয়েছিলেন এবং নিজের মহল্লায় ঘুরে ফিরে এসেছিল আরও স্বাক্ষর নিয়ে। পুরোনো বন্ধু আর সহকর্মীরা এমনভাবে হাজির হয়েছিলেন যে তেমন কোনো সময়ই যায়নি। একেবারে অচেনা মানুষ নির্বাচনি প্রচারের ব্যবস্থাপক হয়ে গিয়েছিলেন- লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়লেও কখনো হাল ছাড়েনি,’ যোগ করেন তাসনিম।
তিনি স্মরণ করেন, ‘ওই দাদাকে, যিনি সন্ধ্যায় এসে আশীর্বাদ আর দোয়া দিয়ে গিয়েছিলেন এবং ২০টি স্বাক্ষর সংগ্রহ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। আর পরদিন সকালেই ফরম ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, “দেখো মা, কথা রেখেছি।” ওই আন্টি, যিনি কানে কানে বলেছিলেন,“কখনো পিছু হটবে না। আমরা আছি।” আমি অবাক হয়ে গেছি।’
গত শনিবার এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা। ওইদিন সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নয়, স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন তিনি।










