শনিবার | ২৮ মার্চ, ২০২৬ | ১৪ চৈত্র, ১৪৩২ | ৮ শাওয়াল, ১৪৪৭

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ, যে কোনো সময় দখলের গুঞ্জন

যোগাযোগ ডেস্ক

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর পড়েছে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের দিকে।

ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দ্বীপটির বিপুল খনিজ সম্পদ চীনা রপ্তানির ওপর নির্ভরতা কমানোর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গত রোববার (৪ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। এখন এটি অত্যন্ত কৌশলগত। চারদিকে রুশ ও চীনা জাহাজ রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন, আর ডেনমার্ক তা সামাল দিতে পারবে না।’

এর একদিন পর হোয়াইট হাউজের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হলো—গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত। সিএনএনের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিকভাবে কেউ লড়াই করবে না।’

ট্রাম্পের হুমকিতে ইউরোপে উদ্বেগ
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর পর ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যখন বলেন তিনি গ্রিনল্যান্ড চান এবং সেটিকে ভেনেজুয়েলা ও সামরিক হস্তক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত করেন। এটি শুধু ভুল নয়, বরং অসম্মানজনক।’

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি আরেকটি ন্যাটোভুক্ত দেশে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সবকিছু থেমে যাবে—ন্যাটোও, এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, সেটিও।’

এদিকে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন, যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্কের নেতারা আজ এক যৌথ বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের। গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডেরই।’

সূত্র: সিএনএন

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ