বৃহস্পতিবার | ২ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৯ চৈত্র, ১৪৩২ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪৭

টানা দুই রাত তীব্র বিক্ষোভ

ইরানে মসজিদে আগুন, বিপ্লব পূর্ববর্তী পতাকা উড়ালো বিক্ষোভকারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে টানা দুই রাত ধরে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা তেহরানের একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পূর্ববর্তী সময়ের রাজতান্ত্রিক পতাকা উড়িয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তেহরানের সাদা’ত আবাত এলাকার বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী এক নারী নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, তিনি নিজেও টানা দ্বিতীয় রাতের মতো রাস্তায় নেমেছিলেন এবং নিজের চোখে বিক্ষোভকারীদের মসজিদে অগ্নিসংযোগ করতে দেখেছেন। গত বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার রাতেও এই অস্থিরতা মাসহাদ, তাবরিজ, উরুমিয়াহ, ইস্ফাহান, কারাজ এবং ইয়জদ শহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিবিসি ফার্সির প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দিচ্ছেন এবং শাহ আমলের রাজতন্ত্রের পক্ষে জয়ধ্বনি করছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থেকে সাধারবিশেষ করে অভিভাবকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, তারা যেন তাদের সন্তানদের রাস্তায় যেতে না দেন। এই বার্তায় আরও বলা হয়, যদি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটে, তবে প্রশাসনকে যেন দায়ী করা না হয়। এমন কড়া হুঁশিয়ারি এবং দেশজুড়ে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন রাখা সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষ রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন।ণ মানুষের প্রতি বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তেহরানের একজন প্রকৌশলী আমির রেজার বর্ণনা অনুযায়ী, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করছে। তিনি জানান, এক পর্যায়ে সিভিল পোশাকে থাকা মিলিশিয়া ও পুলিশ সদস্যরা সরাসরি গুলি চালানো শুরু করলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই অস্থিরতা শুরু হলেও তা দ্রুতই সহিংসতায় রূপ নেয়। টাইম ম্যাগাজিনের একটি প্রতিবেদন দাবি করেছে যে, শুধুমাত্র গত বৃহস্পতিবারেই তেহরানে ২০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৩ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ