যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন ও কাস্টমস বিভাগের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন সদস্যের গুলিতে রেনি নিকোল গুড নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেন। অবশ্য রাজ্যের নেতারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দুই সন্তানের মা মেগান মুর বলেন, ‘আমরা সবাই এখন ভয়ের মধ্যে বাস করছি।
আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে যেখানে কেউই নিরাপদ বোধ করছে না—এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’
কনর ম্যালোনি নামে একজন বলেন, কমিউনিটিকে সমর্থন জানাতে এবং অভিবাসন দমন অভিযানে ক্ষুব্ধ হওয়ায় তিনি মিনিয়াপোলিসের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
‘প্রায় প্রতিদিনই আমি তাদের মানুষকে হয়রানি করতে দেখি। আমাদের আশপাশের কমিউনিটিতে এমনটা ঘটছে—এটা ভীষণই বীভৎস’, যোগ করেন ম্যালোনি।
এর আগে গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতেও মিনিয়াপোলিসের একটি হোটেলের বাইরে প্রায় এক হাজার মানুষের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ হয়। পরে সেই বিক্ষোভ সংঘাতে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সদস্যদের দিকে বরফ, তুষার ও পাথর ছুড়তে থাকেন বলে দাবি করেন মিনিয়াপোলিস পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ও’হারা। তিনি বলেন, বরফের টুকরোর আঘাতে এক পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হন।
এ ঘটনায় ২৯ জনকে নোটিশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে জোর দিয়ে বলেন, অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হলেও যারা সম্পদের ক্ষতি করবে বা অন্যদের বিপদে ফেলবে, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।
বিক্ষুব্ধ জনতাকে আরও উসকে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে ফ্রে বলেন, ‘এটাই ডোনাল্ড ট্রাম্প চান। তিনি চান আমরা উসকানিতে পা দিই।’
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান চালানোর দাবি জানিয়ে আসছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, নিহত নিকোল গুড একজন ‘সহিংস দাঙ্গাবাজ’ ছিলেন এবং ঘটনার সময় তিনি আইসিইর এজেন্টদের গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময় একজন এজেন্ট তার গাড়ির দিকে ‘আত্মরক্ষামূলক গুলি’ ছোড়েন।
তবে শহর ও অঙ্গরাজ্যের নেতৃত্বসহ জাতীয় পর্যায়ের ডেমোক্র্যাটরা ঘটনার এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করছেন।
মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেছেন, ‘এটি ছিল একজন এজেন্টের বেপরোয়া ক্ষমতার ব্যবহার, যার ফলে একজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।’










