নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসংবলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়ার বিধান স্বাক্ষরকারী ভোটারদের জন্য গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এই বিধান বাতিলের দাবিও জানান তারা।রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব অভিযোগ ওঠে। ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীবৃন্দ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ সভায় মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রায় ৩০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নেন। তারা সবাই নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন।
সভায় জানানো হয়, আপিল পর্যায়ে দেখা গেছে—স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল দেখিয়ে অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। আবার অনেককে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে, কারও শুনানি এখনো হয়নি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনাত কাইয়ূম। তার আপিলের শুনানি সোমবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংযুক্তির বিধান নিয়ে সমালোচনা করে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, “নির্বাচন হয় গোপন ব্যালটে। অথচ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর প্রকাশ্যে দিতে হচ্ছে। এতে ভোটারদের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হচ্ছে।”
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় দৈবচয়ন পদ্ধতিতে এসব স্বাক্ষর যাচাই করে। এ সময় কোনো স্বাক্ষরদাতা যদি ভয় বা চাপে পড়ে স্বাক্ষর করেননি বলে জানান, তাহলে সেই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
হাসনাত কাইয়ূম অভিযোগ করেন, তার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা ঠেকাতে পুলিশ এক স্বাক্ষরকারীর বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়েছে।
হাসনাত কাইয়ূম বলেন, “জুলাই গণ–অভ্যুত্থান হয়েছে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য। নির্বাচন কমিশনের সংস্কার না হলে অন্য সংস্কারের কোনো অর্থ থাকে না। যে ধরনের নির্বাচন করার জন্য শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল, তার চেয়েও খারাপ নির্বাচন আয়োজনের দিকে ইসি এগোচ্ছে।”
সভায় ‘বাংলাদেশ স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্য পরিষদ’-এর চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরপরই ১ শতাংশ ভোটার স্বাক্ষর বিধান বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন তাঁরা। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
গোপালগঞ্জ–২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী উৎপল বিশ্বাস বলেন, “আমাদের আসনে ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। এর ফলে ৬ শতাংশ ভোটারের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হয়েছে।” তিনি জানান, এই ‘কালো আইন’-এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে মামলা করেছেন তাঁরা।
সভায় বিভিন্ন আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেন।
-
নড়াইল–১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সুকেশ সাহা বলেন, তার পক্ষে স্বাক্ষর দেওয়া ভোটারদের পুলিশ দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
-
ঝালকাঠি–২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ রাজ্জাক আলী অভিযোগ করেন, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছে এবং তাকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে অজ্ঞাতনামা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “যে ১ শতাংশ ভোটার প্রকাশ্যে স্বাক্ষর করেছেন, তাদের নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকিতে।”
সভায় জামালপুর–৫ আসনের মাসুদ ইব্রাহীম, রাজশাহী–৩ আসনের শেখ হাবিবা, খুলনা–৪ আসনের এস এম আজমল হোসনসহ আরও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।










