ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। এই অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে আজ মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা।
আল জাজিরার খবর অনুসারে, ইরানে টানা ১৬ দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৬৪৮ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ বলছে, সাড়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের হতাহতের কোনো মোট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। দেশটির দাবি, সংঘর্ষে তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর ১০৯ সদস্য নিহত হয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, পরিস্থিতি এখন ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে’। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটি প্রস্তুত। সংলাপের পথও খোলা রাখা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেরি। তবে বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছে তেহরান।
অন্যদিকে ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান ‘শেষ সীমা অতিক্রম করতে শুরু করেছে’। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিষয়টি নজরে রাখছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সংকট সমাধানে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক বিকল্প প্রস্তুত রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক হামলা, সাইবার আক্রমণ (ডিজিটাল ব্যবস্থায় গোপন আঘাত), নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা এবং সরকারবিরোধী পক্ষকে সহায়তা দেওয়া।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপে ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। কারণ, ইরানের অনেক সামরিক স্থাপনা জনবহুল এলাকায় অবস্থিত। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পথে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।










