বৃহস্পতিবার | ২ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৯ চৈত্র, ১৪৩২ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪৭

সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ

যোগাযোগ ডেস্ক:

ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর প্রত্যাশায় মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর আশঙ্কা করা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলা ও ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং সামগ্রিক বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ ও রুপার চাহিদা বেড়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্বর্ণের দাম বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪৬০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ স্বর্ণের দামের রেকর্ড।

এদিন দুপুরে স্পট স্বর্ণ ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৬০১.৬৩ ডলারে লেনদেন হয়। আগের সেশনে স্বর্ণের দাম সর্বকালের রেকর্ড ৪,৬২৯.৯৪ ডলার স্পর্শ করেছিল। ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারস ০.১ শতাংশ কমে ৪,৬১০.৩০ ডলারে নেমে আসে।

অ্যাকটিভট্রেডসের বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের এক শীর্ষ কর্মকর্তার কড়া মন্তব্যের পর ডলারের সামান্য ঘুরে দাঁড়ানো এবং পরে প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) তথ্যের দিকে বিনিয়োগকারীদের নজরএই দুই বিষয় স্বর্ণের দামের ওপর চাপ তৈরি করছে।

নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস সোমবার বলেন, মুদ্রানীতির অবস্থান পরিবর্তনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নিকট ভবিষ্যতে তেমন কোনো চাপ নেই। তবে বাজারে চলতি বছরে দুই দফা সুদহার কমানোর প্রত্যাশা রয়েছে। আজকের সিপিআই তথ্য ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির ইঙ্গিত দিতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।

ভূরাজনৈতিক দিক থেকে মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনে চলতি বছরের সবচেয়ে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত চারজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার বলেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, কম সুদহারের পরিবেশে এবং ভূরাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে।

রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা আরও বলেন, ‘স্বর্ণের দাম ৪,৫০০ ডলারের ওপরে স্থিতিশীল রয়েছে। ডলারের দুর্বল প্রবণতা ও চলমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ৫,০০০ ডলারের স্তর ক্রমেই নাগালের মধ্যে আসছে এবং বছরের প্রথমার্ধেই তা পরীক্ষা হতে পারে।’

এদিকে বাজারের অস্থিরতা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সচেঞ্জ অপারেটর সিএমই গ্রুপ জানিয়েছে, মূল্যবান ধাতুর লেনদেনে পর্যাপ্ত জামানত নিশ্চিত করতে তারা মার্জিন নির্ধারণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ২.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৬.৯৪ ডলারে পৌঁছায়, যা এর আগের রেকর্ড ৮৭.১৬ ডলারের কাছাকাছি। স্পট প্লাটিনাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে ২,৩৫২.৮৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যদিও গত ২৯ ডিসেম্বর এটি ২,৪৭৮.৫০ ডলারের রেকর্ড স্পর্শ করেছিল। প্যালাডিয়ামের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১,৮৪৭.২৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ