রবিবার | ১২ এপ্রিল, ২০২৬ | ২৯ চৈত্র, ১৪৩২ | ২৩ শাওয়াল, ১৪৪৭

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র

৩০০ আসনে একক মাঠে নামায় ক্ষোভ—‘এভাবে চলা সম্ভব নয়’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, আমরা আশা করছিলাম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত সেটি হয়নি। তবে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের আগ পর্যন্ত যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।

তবে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, তিনশ আসনেই একটি দল প্রচার করছে (প্রচারণা চালাচ্ছে), জোটের পক্ষ থেকে তাদের দলের প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। এসব মিথ্যাচার করলে তাদের সঙ্গে সামনে পথচলা কষ্টকর হয়ে যাবে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল বৈঠক করে দলের সব স্তরের নেতাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। মাঠের তথ্য নেওয়া হয়েছে, প্রার্থীদের কথা শোনা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আজ মজলিসে আমেলার বৈঠক হয়েছিল। যাদের নিয়ে শুরু থেকে পথচলা, তাদের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন যোগাযোগ করছে। ওয়ান বক্স পলিসির আওতায় আগামীর পথচলা কেমন হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলমান আছে। দুই-একদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তিনি বলেন, ২০ তারিখ (২০ জানুয়ারি) হলো মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচন হলো ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ। তাই না? ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের আগ পর্যন্ত যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।

আসন সমঝোতার আলোচনায় থাকা পাঁচ দল নিয়ে ইসলামি দলের জোট হতে পারে কি না জানতে চাইলে গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমাদের সঙ্গে অনেকেরই, পাঁচ দলের বাইরেও অনেকেরই আমাদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। ১২ দলের মধ্যে যারা আছে, এদের সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। এর বাইরেও আরও আলোচনা হচ্ছে।

এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, এখন পর্যন্ত পরিষ্কারভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই ব্যাপারে অনেকের সঙ্গে আলোচনা চলছে, কথাবার্তা হচ্ছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অগ্রসর হবে ইসলামী আন্দোলন। যাদের ইসলামী আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, তাদের নিয়ে পথ চলবেন তারা।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘোষণা দিয়ে এসেছেন, তারা সামনে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার গঠন করার জন্য আলোচনা করবেন। এই আলোচনা নির্বাচনের পরেও হবে। জাতীয় সরকারের ব্যাপারেও তিনি কথা বলেছেন। জামায়াতের আমির বলেছেন- খালেদা জিয়া ঐক্যের যে পাটাতন তৈরি করেছিলেন, সেই ঐক্যের পাটাতনের উপরে দাঁড়িয়ে তারা আগামীতে রাষ্ট্র চালাবেন। তবে সেই ঐক্যের পাটাতন খালেদা জিয়ার জীবদ্দশাতেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেই পাটাতন আবার মেরামত করার জন্য বলেছেন জামায়াতের আমির। এটা ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে একটু সংশয় তৈরি করেছে, জামায়াত কি জাতীয় পার্টির মতো ভূমিকা পালন করবে কি না।

আসন সমঝোতা নিয়ে বিভাজন বিএনপিকে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে কি না জানতে চাইলে গাজী আতাউর রহমান বলেন, এটা তো স্বাভাবিক। এর দায় কি আমাদের? এখানে যদি কেউ সুবিধা পায় সেটা পাইতে পারে। কারণ রাজনীতি সবসময় একই ধারায় চলে না। এখানে উত্থান-পতন হবে, জোয়ার-ভাটা হবে। কেউ একসময় উৎসাহী হবে, দেখা যাবে তারাই আবার একসময় নিরুৎসাহী হয়ে যাবে। জোয়ার ভাটা তো আছে এবং গতি সবসময় একরকম থাকে না। একসময় মধ্যম গতি থাকে আবার একসময় দ্রুত গতি হয়, শ্লথ হয়, সবই হয়। তো আশা করি ইনশআল্লাহ আমাদের ঐক্যের যেই পাটাতনটা আমরা তৈরি করেছিলাম, সেটা রক্ষার জন্য আমরা চেষ্টা করবো।

নতুন করে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি তো ফিক্সড করে ফেলেছে তাদের জোট এবং তাদের যে ডিজাইন সেটা তো হয়ে গেছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে গাজী আতাউর রহমান বলেন, নির্বাচনি আসন সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা কাউকে বের করে দেওয়ার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি। ইসলামী আন্দোলন জাতীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। নানান প্রতিকূলতা থাকলেও ন্যূনতম সমঝোতা যাতে থাকে, ইসলামী আন্দোলন সেই চেষ্টা করে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে কিছু সংকট আছে, যা অস্বীকারের সুযোগ নেই। কারও চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলনকে মেনে নিতে হবে, এই রাজনীতি আমাদের দল অতীতেও করেনি। কেউ ইসলামী আন্দোলনকে অবহেলা করলে সেটা স্বাভাবিকভাবে নেওয়া যায় না।

বিভিন্ন জনমত জরিপের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, অনেকে সমীক্ষাকে মানদণ্ড ধরেন। এসব জরিপ কারা করছে মানুষ সেটি বুঝে। এগুলো বেইনসাফি করার পথ উন্মুক্ত করছে। এসব ভাঁওতাবাজি জরিপ দিয়ে নির্বাচনের পথরেখা নির্ধারণ করলে সেখানে বিপর্যয় হবে।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন সবার সঙ্গে সম্মান এবং শ্রদ্ধার সম্পর্ক রাখতে চায়। তবে সবাইকে সবসময় একই সঙ্গে পথ চলতে হবে, এমন নয়। যদি পথ ভিন্নও হয়, সুসম্পর্ক যাতে থাকে, সেই চেষ্টা ইসলামী আন্দোলনের থাকবে।

গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতে এগোতে চেয়েছিল ইসলামী আন্দোলন। সমঝোতার মানে কেউ কারও ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারবে না। সেই পরিবেশ থাকলে আসন কমবেশি নিয়ে সমস্যা থাকতো না। তিনশ আসনেই একটি দল প্রচার করছে, জোটের পক্ষ থেকে তাদের দলের প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। এসব মিথ্যাচার করলে তাদের সঙ্গে সামনে পথচলা কষ্টকর হয়ে যাবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ