শুক্রবার | ২৭ মার্চ, ২০২৬ | ১৩ চৈত্র, ১৪৩২ | ৭ শাওয়াল, ১৪৪৭

সমঝোতায় আজ শুরু বিপিএল

স্পোর্টস ডেস্ক :

বিসিবি পরিচালকের বিতর্কিত মন্তব্যের পর তার পদত্যাগ দাবিতে বিপিএল বয়কট করেন ক্রিকেটাররা। নানা ঘটনার পর দিন শেষে রাতে সমঝোতার ভিত্তিতে আজ আবার মাঠে গড়াচ্ছে বিপিএল। গতকাল রাতে গুলশানের নাভানা টাওয়ারে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার আবার বিপিএল মাঠে গড়ানোর ঘোষণা দেন টুর্নামেন্টের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান। এর আগে ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকাল সোয়া ৫টা। মাঠে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটানসের ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা। আশ্চর্য হলেও সত্য, গ্রাউন্ডস কমিটির স্টাফ ছাড়া আর কাউকে মাঠে দেখা যায়নি। দুই দলের ক্রিকেটারদের মাঠে দেখা যায়নি। ক্রিকেটাররা কেউই হোটেল থেকে মাঠে আসেননি। শুধু তাই নয়, মাঠ থেকে ধীরে ধীরে হোটেলের দিকে ফিরে যেতে থাকেন ধারাভাষ্যকার ওয়াকার ইউনুস, রমিজ রাজা, নিক কম্পটন, পারভেজ মারুফ, আতহার আলি খান, মাজহারউদ্দিন অমিরা। তখনই মিডিয়া বক্সে কর্মরত সংবাদকর্মীরা নিশ্চিত হয়ে যান, বিপিএলের দ্বিতীয় ম্যাচও হবে না। ক্রিকেটারদের বয়কটের ঘোষণায় দিনের প্রথম ম্যাচ নোয়াখালী এক্সপ্রেস-চট্টগ্রাম রয়্যালস ম্যাচটিও হয়নি। গতকাল সন্ধ্যায় বিপিএল থেকে ধারাভাষ্যকারদের জানানো হয়, আজকের (গতকাল) খেলা দুটি হবে না। পরের খেলাগুলো ভবিষ্যতে জানানো হবে। গতকাল খেলা না হওয়ায় বিসিবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক জানিয়েছেন, বিপিএলের ১২তম আসরের বাকি খেলাগুলো না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। চলতি মৌসুমের বিপিএল স্থগিত হয়ে যাচ্ছে।

ক্রিকেটারদের বয়কটে বিপিএলের খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এই প্রথম। এ ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের ক্রিকেটারদের নিয়ে কটূক্তির পর। দিন দুই আগে মিডিয়ার মুখোমুখিতে ক্রিকেটার অর্থকড়ি নিয়ে কথা বলেন বিসিবি পরিচালক ও ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ না খেললে বিসিবির কোনো সমস্যা হবে না। সমস্যা হবে ক্রিকেটারদের। কারণ তারা ম্যাচ ফি, ম্যাচসেরার পুরস্কার পান এটা তাদের ব্যক্তিগত অর্জন।’ এটুকু বলেই তিনি থেমে থাকেননি। ক্রিকেটারদের পেছনে যে অর্থ ব্যয় করা হয়, সেটা ফেরত নেওয়া হয় না, ‘আমরা তো ( বিসিবি) ক্রিকেটারদের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করি। তারা ব্যর্থ হলে, আমরা কি তাদের কাছ থেকে ফেরত নেই।’ বিসিবির পরিচালকের এমন মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন ক্রিকেটাররা। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন স্পষ্টভাবে বলেন, ‘বিসিবি পরিচালককে যদি অব্যাহতি দেওয়া না হয়, তারা বিপিএলের পরবর্তী খেলাগুলো বয়কট করবে।’ ক্রিকেটাররা কেউই গতকাল মাঠে আসেননি। বাতিল হয় গতকালের খেলা দুটি।

ক্রিকেটারদের নিয়ে কটূক্তির পর বিসিবি ওই রাতেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। কিন্তু ক্রিকেটাররা তাদের অবস্থানে অনড় থাকেন। বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চে বসেছিলেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ও টি-২০ অধিনায়ক লিটন দাস। কোয়াবের পক্ষ থেকে সভাপতি মিঠুনসহ তিন অধিনায়ক নানা বিষয়ে কথা বলেন।  কোয়াবের সংবাদ সম্মেলনের পর বিসিবি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, নাজমুল ইসলামকে বিসিবির ফিন্যান্স কমিটির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা। ক্রিকেটাররা এটা মানতে পারেননি। নাজমুলকে সড়িয়ে দেওয়ার দাবিতে অনড় থাকেন। যদিও বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো পরিচালককে সরাসরি বাদ দেওয়ার নিয়ম নেই। সেই নিয়মটাই হয়তো অনুসরণ করছে বিসিবি। তবে তার ক্লাব ট্যালেন্ট হান্ট যদি তার কাউন্সিলরশিপ বাতিল করে, তাহলে নিয়ম মেনে নাজমুল ইসলামের কাউন্সিলরশিপ বাতিল হবে। পরিচালক পদ হারাবেন তিনি।

গতকাল রাত ৮টায় বিসিবি পরিচালকরা জরুরি বৈঠকে বসেন। এদিকে রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে  কোয়াব সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে নতুন শর্তের কথা জানিয়েছে। এম নাজমুল ইসলামের  পরিচালক পদ নিয়ে প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলে আজ থেকে খেলায় ফিরতে প্রস্তুত ক্রিকেটাররা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ