বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের এত তালা কেনার টাকা নেই যে, নারীদের ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখব। আমরা নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ ও কর্মস্থল নিশ্চিত করব। বড় শহরগুলোতে আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা হবে, যাতে নারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন।
সোমবার দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়া আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সকাল ৯টায় কুষ্টিয়া আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হয় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভা। ভোর থেকেই দলটির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে। স্বেচ্ছাসেবকরা শহরের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে জনসভাস্থলের পথ সুগম রাখার চেষ্টা চালান। সকাল ১০টার মধ্যে জামায়াত আমিরের জনসভাস্থলে পৌঁছার কথা থাকলেও কুয়াশায় বিলম্বিত হয় তার যাত্রা। জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রায় ১২টার দিকে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, যারা ৫৪ বছর ধরে দেশটাকে খাবলে খামছে একেবারে তছনছ করে দিয়েছে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্র পরিবর্তন না হলে দেশের জন্য ভালো কিছুই করতে পারবে না।
৫ আগস্টের পর শত শত মানুষকে অন্যায় মামলার আসামি করা হয়েছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সেই আসামিতে জনগণ আছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আছেন। এমনকি সিভিল সার্ভিস প্রশাসনের লোকেরাও আছেন। এই তো হয়ে গেল মামলা বাণিজ্য। জায়গায় জায়গায় আমাদের ভাইয়েরা নেমে পড়লেন চাঁদাবাজি করতে। এই ভাইদের প্রতি আমরা খুব দরদ ভরা মনে বলতে চাই, সত্যিই যদি আপনাদের সংসারে অভাব অনটনের কারণে আপনারা এই কাজগুলা করে থাকেন। আপনারা এখান থেকে সরে আসুন। আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, ওইটাই আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ফেলতে রাজি আছি।
জনসভায় জামায়াত আমির আফসোস করে বলেন, সাড়ে ১৫ বছর পর যখন একটা পরিবর্তন আসল, আমরা দেখলাম পুলিশ নাই, বিজিবি নাই, আনসারের ছায়াও নাই। নিভু নিভু অবস্থায় আমাদের সেনাবাহিনী জান দিয়ে চেষ্টা করছে কিছু করার, তারাও পারছে না। তাদের পাশে মজবুত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। এ দেশ আমাদের দেশ। এত মজলুম একটা সংগঠন নেতাদের খুন করা হলো, ফাঁসি দেওয়া হলো। দফায় দফায় জেলে পোড়া হলো, অফিস বন্ধ করে রাখা হলো। ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হলো। আমাদের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হলো। শেষ পর্যন্ত বেদিশা সরকার বেহুশ হয়ে আমাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করল। এরপরে আর হুশ ফিরে পায়নি। ওই বেহুঁশ অবস্থায় দেশ ছেড়ে তারা চলে গেছে।
কুষ্টিয়ার সমস্যার দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে আমির শফিকুর রহমান বলেন, এ অঞ্চলে অনেকগুলো সমস্যা আছে। আমরা যখন আসছিলাম উপর থেকে দেখছিলাম, পদ্মা গড়াই নদী নয়, যেন মরুভূমি। এটা যখন মরুভূমি হয়ে গিয়েছে তখন আর নদী থাকে না। ওই নদীতে যখন ঢলের পানি আসে তখন দুই কুল উপচে পড়ে, দুই কুল ভাসিয়ে সবকিছুকে তছনছ করে দেয়। বছরের পর বছর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বহু মানুষের জীবনের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। অনেক মানুষ সর্বস্বান্ত। কেন এমনটা হলো? নদী তো আল্লাহর নিয়ামত।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে আল্লাহর এ নিয়ামতগুলোকে তিলে তিলে খুন করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। এই নদী খননের জন্য প্রত্যেক বছর বাজেট থাকে। নদী খননের সমস্ত টাকা মুখ দিয়ে ঢুকে, পেটের ভিতরে চলে যায়; নদীর বালি আর ওঠে না। খননও হয় না। উন্নয়নের নামে ৫৪ বছর কমবেশি যারাই ক্ষমতায় গিয়েছেন এই একই কাজ তারা করেছে।










