শুক্রবার | ২৭ মার্চ, ২০২৬ | ১৩ চৈত্র, ১৪৩২ | ৭ শাওয়াল, ১৪৪৭

যেসব কারণে অর্থনীতির জন্য ‘বড় ঝুঁকি’ হতে পারে পে-স্কেল

যোগাযোগ ডেস্ক:

সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বেতন বৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কিন্তু রাষ্ট্রের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব আয়ের সীমাবদ্ধতা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর বাস্তবতায় এ মুহূর্তে নতুন পে-স্কেলের উদ্যোগ কতটা সুবিবেচনাপ্রসূত, তা নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটি যথার্থই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, জনপ্রশাসন সংস্কার ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত না করে কেবল বেতন বাড়ানো হলে তা কার্যত দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগকেই আরও প্রসারিত করবে। হুট করে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সরকারি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের সেবার মানের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেনি। টিআইবি একে ‘দুর্নীতির প্রিমিয়াম’ বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসাবে অভিহিত করেছে, যা বাস্তব ও উদ্বেগজনক। জনগণের করের টাকায় যাদের বেতন হয়, তাদের জবাবদিহিহীন আচরণ, সেবাপ্রদানে অনীহা এবং দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দূর না করে কেবল আর্থিক সুবিধা বাড়ানো হলে তা হবে সাধারণ করদাতাদের প্রতি অবিচার।

তাছাড়া এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হতে পারেন সমাজের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। সরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধির একটি অবশ্যম্ভাবী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারব্যবস্থার ওপর। অতীতের ধারা অনুযায়ী, পে-স্কেল ঘোষণার পরপরই দ্রব্যমূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে নিম্নআয়ের মানুষ এবং বেসরকারি খাতে কর্মরত বিশাল জনগোষ্ঠীর ওপর। সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়লেও বেসরকারি খাতের কর্মী কিংবা দিনমজুরদের আয় সেই অনুপাতে বাড়ে না, অনেক ক্ষেত্রে অপরিবর্তিতই থাকে। ফলে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে এই শ্রেণির মানুষের ওপর বিশাল অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হবে, যা বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলবে।

এ অবস্থায় টিআইবির প্রস্তাবনাগুলো সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বেতন বৃদ্ধির পূর্বশর্ত হতে হবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। বিশেষ করে সব পর্যায়ের কর্মচারীর সম্পদের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ ও জনসম্মুখে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা জরুরি। সরকারকে মনে রাখতে হবে, কেবল আমলাতান্ত্রিক তোষণ নীতি নয়, বরং জনস্বার্থই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। অর্থনীতির সক্ষমতা যাচাই এবং প্রশাসনিক সংস্কার সম্পন্ন না করে হুট করে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ