চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক ও কৌশলগত সম্পদ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে বন্দর এলাকা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আগামী শনিবার ও রবিবার বন্দরে টানা ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্দরের কারশেড ও আশপাশের এলাকায় বন্দর রক্ষা পরিষদসহ বিভিন্ন শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনের ব্যানারে ব্যাপক বিক্ষোভ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা এনসিটি টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান।সকালে বিক্ষোভ মিছিল শেষে বন্দর রক্ষা পরিষদের নেতারা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তাঁরা জানান, আগামীকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সব অপারেশনাল কার্যক্রম (পণ্য হ্যান্ডলিং এবং জাহাজ থেকে পণ্য খালাস) বন্ধ থাকবে। আগামী রবিবার একই সময়ে বন্দরের প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রমই স্থবির করে দেওয়া হবে। এদিন সকাল ১১টায় বন্দর ভবনের সামনে কালো পতাকা মিছিলের ডাক দিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ দুই দিনের মধ্যে দাবি মানা না হলে পরবর্তী সময়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দর অচল করে দেওয়া হবে।
গতকাল সকালে বিক্ষোভ মিছিলের পর বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে স্কপ। সেখানে লিখিত বক্তব্যে শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তপন দত্ত অভিযোগ করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সরকার ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করতে চাইছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘একটি অনির্বাচিত, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের মাত্র ১২ দিন আগে কেন রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ ৪০ বছরের জন্য ইজারা দিতে চায়? দরপত্র সংশোধন থেকে শুরু করে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং—সবকিছুতে অস্বাভাবিক তাড়াহুড়া গভীর ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।
আন্দোলনকারীরা তাঁদের অবস্থান পরিষ্কার করতে তিন দফা দাবি পেশ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যানের অবিলম্বে অপসারণ, বর্তমান বন্দর বোর্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করা এবং জাতীয় সম্পদ হিসেবে বন্দরের কোনো টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তর না করা। শ্রমিক দল নেতা ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘আমরা আদালতের বিরুদ্ধে নই, আমরা সরকারের সেই কূটকৌশলের বিরুদ্ধে, যারা দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রকে বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে চাইছে।’ সিবিএর সাবেক নেতা হুমায়ুন কবির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশীয় সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন বিদেশিদের দ্বারস্থ হতে হবে? এটি শুধু চাকরির প্রশ্ন নয়, এটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।’ এদিকে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বন্দর এলাকায় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।










