বৃহস্পতিবার | ২ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৯ চৈত্র, ১৪৩২ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪৭

চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে চুক্তির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তৃতীয় দিন ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতি চলাকালে নতুন কর্মসূচির ডাক দেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। তারা বলছেন, সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক স্থাপনা বিদেশিদের (ডিপি ওয়ার্ল্ডের) হাতে তুলে দিয়ে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে। দেশের স্বার্থ রক্ষায় যখন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে নেমেছে তখন তাদের সঙ্গে আলোচনার পরিবর্তে কর্মচারীদের বদলিসহ নানা হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।

প্রতিহিংসামূলক ও স্বৈরাচারী এই আচরণে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও দানা বাঁধছে। শনি ও রোববার দুই দফায় চট্টগ্রাম বন্দরের ১৬ জন কর্মচারীকে পানগাঁও ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করা হয়েছিল।  সোমবার মন্ত্রণালয়ের নতুন এক আদেশে তাদের মধ্যে ১৫ জনকে বদলি করে মোংলা ও পায়রা বন্দরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, মোংলা ও পায়রা বন্দর আলাদা প্রতিষ্ঠান। সাধারণত চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারীদের এই দুই বন্দরে পাঠানোর সুযোগ নেই। তবে যেখানেই বদলি করা হোক এ পর্যন্ত কোনো কর্মচারী নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার সংকল্প করেছেন তারা।

তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকার ও আদালতের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের এ ধরনের আন্দোলনে যাওয়া ঠিক হয়নি। এতে ‘মহলবিশেষের ইন্ধন’ রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে টানা তিন দিনের কর্মবিরতি তথা ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। কোনো ধরনের কনটেইনার হ্যান্ডলিং না হওয়ায় বিভিন্ন ইয়ার্ডে সৃষ্টি হয়েছে কনটেইনারের জট। কেবল রোজার পণ্যসহ জরুরি পণ্য নিয়ে বন্দরের বহির্নোঙ্গরে ভাসছে ৩৫টি মাদার ভেসেল। লাইটার থেকেও পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না।

একইভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের আওতাধীন যেসব বেসরকারি ডিপো বা অফডক রয়েছে সেসব অফডকেও অপারেশনাল কার্যক্রমে মারাÍক ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। কর্মচারীদের নতুন করে ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি কর্মসূচি ঘোষণার কারণে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তারা বলছেন, আমদানি-রপ্তানির বেশির ভাগ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। দেশের অর্থনীতির প্রাণ চট্টগ্রাম বন্দর যে কোনো মূল্যে সচল রাখতে হবে। সেটা আলোচনার ভিত্তিতে হোক কিংবা অন্য যেকোনো উপায়ে হোক। টানা তিন দিনের কর্মবিরতির কারণে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে তা টাকার অঙ্কে হিসাব করা কঠিন।

সোমবার সকালে দাবি আদায়ে কালোপতাকা মিছিল করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ। বন্দরের দেয়ালে দেয়ালে সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে কালো হরফে লেখা ‘কর্মবিরতি’ চলছে স্টিকার। স্কপের সমাবেশ থেকে বন্দর চেয়ারম্যান ও বিডা চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করা হয়। কর্মচারীদের কর্মবিরতি বা ধর্মঘটের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিও।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ