শুক্রবার | ২৭ মার্চ, ২০২৬ | ১৩ চৈত্র, ১৪৩২ | ৭ শাওয়াল, ১৪৪৭

যুদ্ধের প্রস্তুতির নেপথ্যে কী? গোপন নথি ফাঁসে ভিয়েতনাম–যুক্তরাষ্ট্র ইস্যু

যোগাযোগ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ভিয়েতনাম। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া হ্যানয়ের এক গোপন সামরিক নথিতে উঠে এসেছে এমন তথ্য। নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ‘আগ্রাসী যুদ্ধ’-এর আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ভিয়েতনাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা ওই নথির শিরোনাম ‘দ্বিতীয় মার্কিন আগ্রাসন পরিকল্পনা’। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘যুদ্ধবাজ শক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ভিয়েতনামের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার সম্ভাব্য মার্কিন উদ্যোগের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন দ্য ৮৮ প্রজেক্ট মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নথিটির বিষয়বস্তু তুলে ধরেছে।

এই নথি ফাঁসের সময়টি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর প্রায় এক বছর আগেই ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্পর্ককে ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব’-এ উন্নীত করে, যেখানে ওয়াশিংটনকে চীন ও রাশিয়ার সমমর্যাদায় স্থান দেওয়া হয়। তবে অভ্যন্তরীণ এই মূল্যায়ন ভিয়েতনামের দ্বিমুখী পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বাহ্যিক কূটনৈতিক সৌহার্দ্য বজায় রাখা হলেও ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর সন্দেহ রয়ে গেছে।

নথিতে সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার পাশাপাশি তথাকথিত ‘কালার রেভ্যুলুশন’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট নেতৃত্বের আশঙ্কা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জাতিগত ও ধর্মীয় ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি শক্তি সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান উসকে দিতে পারে। উদাহরণ হিসেবে ইউক্রেনের ২০০৪ সালের অরেঞ্জ বিপ্লব ও ফিলিপাইনের ১৯৮৬ সালের পিপল পাওয়ার আন্দোলনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নথিতে বলা হয়েছে, নিকট ভবিষ্যতে ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কা কম। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা চীনের প্রভাব মোকাবিলার অংশ হিসেবে প্রচলিত যুদ্ধের বাইরে গিয়ে অপ্রচলিত কৌশল ব্যবহার করতে বা হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।

দ্য ৮৮ প্রজেক্টের সহপরিচালক ও বিশ্লেষণের লেখক বেন সুয়ান্টন বলেন, নথিতে উঠে আসা উদ্বেগ ভিয়েতনাম সরকারের ভেতরের একটি বিস্তৃত ঐকমত্যের প্রতিফলন। তার মতে, হ্যানয় যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকৃত কৌশলগত মিত্র হিসেবে দেখে না এবং কোনোভাবেই চীনবিরোধী জোটে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেই।

এ বিষয়ে ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও নথির বিষয়বস্তু নিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে শুধু বলেছে, দুই দেশের অংশীদারত্বের লক্ষ্য হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা।

সূত্র: এপি, ইউএনবি

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ