সোমবার | ৬ এপ্রিল, ২০২৬ | ২৩ চৈত্র, ১৪৩২ | ১৭ শাওয়াল, ১৪৪৭

সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা, চাঁদাবাজি নয়: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

যোগাযোগ ডেস্ক

পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিকরা সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা আদায় করছেন, এটিকে চাঁদা আকারে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

সড়কের ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা হচ্ছে চাঁদাবাজি, এ বিষয়ে আপনারা কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি না- জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‌‘সড়ক পরিবহনে চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখছি না। বাস মালিক সমিতি আছে। শ্রমিক সমিতি, ফেডারেশন আছে। অনেক সময় অলিখিত বিধির মতো তারা তাদের কল্যাণে ব্যয় করে বিধায় তার এটা সংগ্রহ করে তাদের সম্মতিতে। চাঁদা আমি ওইটাকে বলতে চাই- যারা দিতে চান না বা তাকে বাধ্য করা হচ্ছে, এটা হলো চাঁদা।’

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘মালিক সমিতি আছে, তারা একটা নির্দিষ্ট হারে চাঁদা তুলে, মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়, কতটুকু ব্যবহার হয় জানি না। সেটা নিয়ে হয়তো বিতর্ক আছে।’

তিনি বলেন, ‘তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এটা (চাঁদা তোলা) করে। সেখানে আবার প্রাধান্য পায় যখন যার প্রভাব থাকে, ওই মালিকদের মধ্যে অথবা দলের প্রভাবও থাকে। দলের শ্রমিক সংগঠনদের একটা আধিপত্য থাকে। এটা আছে, এটা চাঁদা আকারে আমাদের কাছে দেখার সুযোগ হচ্ছে না, কারণ তারা সমঝোতার ভিত্তিতে করছে। চাঁদাবাজি যদি কেউ করতে আসে কোনো সুযোগ নেই।’

‘মালিকরা যদি সমঝোতার ভিত্তিতে ওটা করে সেটাও আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে দেখবো, সেখানে কেউ বঞ্চিত হচ্ছে কি না এবং সেই অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে কি না।’

রাজধানীতে অটোরিকশার অরাজকতার বিষয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘অটোরিকশার দৌরাত্ম্য এবং যত্রতত্র এর ব্যবহার, স্বেচ্ছাচারী ব্যবহার- এটা কোনো সভ্য দেশে চলতে পারে না, কোন সভ্য শহরে কাম্য নয়। এটা উচ্ছেদ বা সম্পূর্ণ বন্ধ করা একবারে যাবে কি না, নাকি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে পর্যায়ক্রমে কীভাবে করা যায়- সে বিষয়ে কঠোর হতে হবে। ট্রাফিক বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার আছে। এখানে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ব্যাপারও আছে। এ বিষয়ে আমরা একটা কর্মপরিকল্পনা করবো। এটা ঢাকাবাসী এবং আমাদের সবার চাওয়া। আমরা এ বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটা পদক্ষেপ নিতে চাইবো।’

নিজের তিনটি মন্ত্রণালয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি এই মন্ত্রণালয়গুলো আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে জবাবদিহি থেকে জনআকাঙ্ক্ষা ও মানুষের প্রয়োজনধারণ করে নতুন ব্যবস্থাপনার মধ্যে চলবে।’

অগ্রাধিকার কর্মসূচির মধ্যে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি আরও জানান, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গত বছরের ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা হবে, আর কী কী করলে মানুষের ভোগান্তি আরও কমবে, সে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ