মেক্সিকোর মাদক সম্রাট নেমেসিও ওসেগুয়েরা ওরফে এল মেনচোর পতনের সূত্রপাত হয়েছিল এক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ থেকে। প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার তথ্যের সূত্র ধরেই তার অবস্থান নিশ্চিত করে সামরিক বাহিনী। পরে বিশেষ অভিযানে আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নেমেসিও ওসেগুয়েরা ছিলেন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি)-এর প্রধান। রোববার পশ্চিমাঞ্চলীয় জলিস্কো অঙ্গরাজ্যের তাপালপা এলাকার একটি বনাঞ্চলঘেরা আস্তানায় অভিযান চালায় মেক্সিকোর বিশেষ বাহিনী। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ওসেগুয়েরার এক ঘনিষ্ঠ নারীর সহযোগীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালনা করা হয়।
অভিযানের সময় সশস্ত্র সহযোগীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালায়। কয়েক ঘণ্টার সংঘর্ষে ওসেগুয়েরা ও তার দুই দেহরক্ষী আহত হন। তাদের হেলিকপ্টারে করে রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে নেওয়া হচ্ছিল। তবে পথেই তিনজনের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে রকেট লঞ্চার, গ্রেনেড লঞ্চার ও মর্টার শেলসহ ভারী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসেগুয়েরার মৃত্যুর পর জলিস্কোসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সড়ক অবরোধ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সরকার জানিয়েছে, সহিংসতায় ২৫ জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য নিহত হয়েছেন। সাতটি অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদকচক্র দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এল মেনচোর মৃত্যু সিজেএনজি কার্টেলের জন্য বড় ধাক্কা। তবে নেতৃত্ব পুনর্গঠনকে ঘিরে স্বল্পমেয়াদে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সহিংসতার কারণে কয়েকটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করে। কিছু ফ্লাইট বাতিল হয়। শেয়ারবাজারে বিমান ও বিমানবন্দর–সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যায়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ কার্টেলের ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে।
মেক্সিকোয় দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিত অপরাধ ও মাদকচক্র–সম্পর্কিত সহিংসতায় লক্ষাধিক মানুষ নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন। সরকার বলছে, এল মেনচোর মৃত্যু বড় ধাক্কা হলেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নিরাপত্তা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স










